অস্ট্রেলিয়ায় চার ধরনের অবৈধ মাদকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ায় চার ধরনের অবৈধ মাদকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেশটির সর্বশেষ পরীক্ষায় জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স কমিশনের (ACIC) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২২ দশমিক ২ টন মেথঅ্যামফেটামিন, কোকেন, হেরোইন ও এমডিএমএ সেবন করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় মাদক সেবন ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মেথঅ্যামফেটামিন সেবন বেড়েছে ২১ শতাংশ, কোকেন ৬৯ শতাংশ, এমডিএমএ ৪৯ শতাংশ এবং হেরোইন ১৪ শতাংশ।
ACIC-এর বার্ষিক জরিপে দেশের ৫৭ শতাংশ জলপথ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহারের চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই পরীক্ষায় মেথঅ্যামফেটামিন, অ্যামফেটামিন, কোকেন, এমডিএমএ, এমডিএ, হেরোইন, গাঁজা, অক্সিকোডন, ফেন্টানিল, নিকোটিন, অ্যালকোহল ও কেটামিনসহ বিভিন্ন মাদক শনাক্ত করা হয়।
ACIC-এর প্রধান নির্বাহী হিদার কুক জানান, পরীক্ষায় শনাক্ত মাদকের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যার মধ্যে একাই মেথঅ্যামফেটামিনের মূল্য ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, “দেশে মেথঅ্যামফেটামিন ব্যবহারের পরিমাণ ২ দশমিক ২ টন বেড়েছে, যা আমাদের জরিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মাদক সমাজে মারাত্মক ক্ষতি করে।”
তিনি আরও জানান, একইভাবে কোকেনের ব্যবহারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রথমবার একসঙ্গে কোকেন, হেরোইন ও মেথঅ্যামফেটামিন—তিনটি মাদকই রেকর্ড পরিমাণে সেবন করা হলো।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইনি মাদক হিসেবে অ্যালকোহল ও নিকোটিনই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অ্যালকোহলের ব্যবহার বেড়েছে, তবে নিকোটিনের ব্যবহার কিছুটা কমেছে।
গাঁজা এখনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অবৈধ মাদক। গ্রামীণ এলাকায় গাঁজা সেবনের হার শহরের তুলনায় বেশি।
সুত্রঃ নাইন নিউজ