ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ভারতে আগামী লোকসভা ভোট এখনও কিছুটা দূরে। পরবর্তী ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৯ সালে। তবে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিহার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনে কে হবে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তা নির্ধারণ হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যটিতে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলো ভোটের ময়দানে নেমেছে।
বিরোধী দলগুলো এবার বিশেষভাবে সক্রিয় হয়েছেন। তারা বিহার থেকে বিজেপিকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনে দৃঢ় মনোযোগী। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার নেতৃত্বে রাজ্যের সব বিরোধী দল এক ছাতার তলায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারের বিধানসভা ভোট রাহুলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিহার ভোটের ফলাফল কেমন হবে তা সময়ই বলবে। তবে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা রাহুলকে আগামী লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার দাবিতে এগিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এ বিষয়ে সক্রিয়। মঙ্গলবার নওদা থেকে এক সভায় তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “পরেরবার আমরা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করব।” এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সভায় তেজস্বী আরও অভিযোগ করেছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণে একটি পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নিতে চায় বিজেপি। আমরা বিহারী। আমাদের কাছে ভোট হল খৈনির মতো। ডলে ফেলে দেবো।”
এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। গত ১৭ আগস্ট থেকে তিনি বিহারে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হল ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাতিল হওয়া ৬৩ লাখ ভোটারের নাম পুনঃস্থাপন করা এবং নির্বাচনী অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এই যাত্রায় রাহুল গান্ধী কংগ্রেস ও বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। ১৬ দিনে তারা বিহারের ২০টির বেশি জেলা পরিদর্শন করবেন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে পটনায় যাত্রা শেষ করবেন। এই সময় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবেন রাহুল।
এর আগে রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালে ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ এবং ২০২২-২৩ সালে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’তে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ কর্মসূচি গুলোর সাফল্য কংগ্রেসকে আগামী নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে এনেছে।
নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নতুন কিছু নয়। প্রতি দশবছরে এটি হয়। কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিজেপিকে সুবিধা দিতে বিরোধীদের সমর্থকদের নাম লক্ষ্য করে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি একজন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, আমি সারা বিশ্বে এই বিষয়টি জানাবো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিহারের ভোটে রাহুলের নেতৃত্ব এবং বিরোধীদের একজোটি ভূমিকা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নির্বাচন শুধু রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আবির্ভাবের পথ সুগম করতে পারে।
সুত্রঃ এনডিটিভি