আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- আজকের সকালের প্রথম আলোর শীর্ষ খবর “পাথর লুটে জড়িত ৪২ নেতা–ব্যবসায়ী, ভাগ পেতেন ডিসি–এসপি!” প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে, বিশেষ করে তিন মাস ধরে, পাথর উত্তোলন চলতে থাকে। সর্বশেষ ১৫ দিন আগে নির্বিচার পাথর উত্তোলন ও আত্মসাৎ হয়। এতে প্রায় ৮০ শতাংশ পাথর তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকাটি অসংখ্য গর্ত ও বালুচরে পরিণত হয়েছে।
মাত্র একটি অঞ্চলের অনুসন্ধানেই ৪২ জন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও পুলিশের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ভাবা যায়, যদি দেশজুড়ে প্রত্যেকটি সেক্টরে সত্যিকারের তদন্ত হয়, তবে আরও কত ‘কোম্পানীগঞ্জ’ উন্মোচিত হবে!
বাংলাদেশে দুর্নীতি যেন এখন আর দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি গোটা শাসনব্যবস্থার মহামারী। অতীতে আওয়ামী লীগের আমল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বারবার, অনেকাংশেই যথার্থ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কি আমরা ভিন্ন কিছু দেখছি? দুর্নীতি কমেছে—এমন কোনো প্রমাণ কি কেউ দেখাতে পারবেন? বরং দেখা যাচ্ছে, একই দুর্নীতির রূপ এখন আরও স্পষ্টভাবে বিস্তৃত।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত খবরে দেখা গেল—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির অবস্থান এখন ১৫১তম, কঙ্গো ও ইরানের পাশে। গত এক বছরে যেহারে দুর্নীতি আর লুটপাট চলছে তাতে আগামী ২০২৬ এর প্রতিবেদনে দুর্নীতিতে স্কোর কত করবে বাংলাদেশ তা দেখার বিষয়।
উদ্বেগের বিষয়, গত ১৩ বছরের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। প্রশ্ন জাগে—তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমরা কী পেলাম? দুর্নীতিমুক্ত শাসনের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তার ফল কোথায়? যে প্রত্যাশা ছিল সুশাসনের, সেই প্রত্যাশা আজ ভেঙে চুরমার।
কোম্পানীগঞ্জের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রশাসন ও পুলিশের কমিশন ভাগের বর্ণনা—প্রতি ট্রাকে কয়েক হাজার টাকা ভাগ বণ্টন হয় ডিসি, ইউএনও থেকে শুরু করে এসপি, ওসি পর্যন্ত। জাতীয় সম্পদ লুটপাটে তারা প্রত্যেকে নিজেদের হিস্যা নিশ্চিত করছে। জনগণের সেবার শপথ নিয়ে যারা দায়িত্বে বসেন, তারাই যখন দুর্নীতির ভাগীদার হন, তখন রাষ্ট্রের ভরসা কোথায় থাকে?
এটাই আসল প্রশ্ন। দুর্নীতি কি দলের হাতে, নাকি পুরো ব্যবস্থার গায়ে পচন ধরেছে? শুধু মুখে মুখে অতীত সরকারকে দোষারোপ নয়—বর্তমান সরকারকেও জবাবদিহি করতে হবে। পরিবর্তনের নামে যদি একই অনিয়ম চলতে থাকে, তবে জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। তারা চাইবে প্রকৃত পরিবর্তন—দল নয়, ব্যবস্থা পরিবর্তনের।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেই জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর। না হলে দুর্নীতির আরও ভয়ংকর চিত্র সামনে অপেক্ষা করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au