শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- পাঁচ বছর আগেই চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছিল। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আহমেদাবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল জমকালো “নমস্তে ট্রাম্প” সমাবেশ। তখন ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ক ছিল উষ্ণ, বাণিজ্যে উন্নতি হচ্ছিল, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কও চোখে পড়ার মতো ছিল।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। এর পর টিকটকসহ দুই শতাধিক চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে নয়াদিল্লি। চীনের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও কোয়াড জোটের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কও জোরদার করে ভারত।
শুল্ক ও ভূরাজনীতির টানাপোড়েন
বর্তমানে চিত্রটা আবার পাল্টাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ভারতকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে। ফলে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে চীনের ওপর এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যদিও বেইজিংও রাশিয়া থেকে বিপুল জ্বালানি আমদানি করছে।

গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। ছবিঃ রয়টার্স
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্যমূলক শুল্ক নীতি ভারত ও চীনকে ধীরে ধীরে কাছাকাছি আনছে। দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সাফল্য ও কৌশলগত প্রভাব ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে চাপে পড়ছে।
‘ড্রাগন–হাতির বন্ধুত্ব’
চলতি সপ্তাহেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ওয়াং ই আরও বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। আলোচনায় এসেছে সীমান্ত বিরোধ ও হিমালয় অঞ্চলের উত্তেজনা।
দুই দেশ বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে—সরাসরি ফ্লাইট চালু, ভিসা প্রক্রিয়া সহজকরণ ও সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানো। গত জুনে তিব্বতে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল বেইজিং। এছাড়া সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সমঝোতার পথ খোঁজার দিকেও আগ্রহ দেখিয়েছে উভয়পক্ষ।

চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লাইফেং ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এ ছাড়া, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন মোদি। সাত বছর পর এটাই হবে তার প্রথম চীন সফর। বিশ্লেষকদের মতে, চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এই জোট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ঠেকানোর উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
বাণিজ্যিক বাস্তবতা
চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এখনও বিপুল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৯৯.২ বিলিয়ন ডলার, মূলত ইলেকট্রনিক পণ্যের আমদানির কারণে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বড় বাণিজ্য অংশীদার হলেও, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে চাইছে, যা ট্রাম্পের শুল্কের চাপ কিছুটা লাঘব করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই প্রথম ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “একটি বাণিজ্যযুদ্ধে কারও কোনও লাভ নেই।”
কৌশলগত হিসাব
নয়াদিল্লি ঐতিহাসিকভাবেই কোনো সামরিক জোটে সরাসরি যুক্ত হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পরিস্থিতিভেদে অংশীদারত্ব করেছে। এখন ভারতের কাছে চীনের ঘনিষ্ঠতা কৌশলগত বিকল্প হতে পারে।
তাইওয়ান–এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফাউন্ডেশনের গবেষক সানা হাশমি বলছেন, “চীনের জন্য ভারতের কাছে আসাটা কৌশলগত। তবে নয়াদিল্লির ক্ষেত্রে বিষয়টা অনিশ্চয়তা ও দ্রুত ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ফল।”
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের গবেষক ইভান লিদারেভের মতে, “ভারত ও চীন বুঝতে পেরেছে, নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে তারা অনেক ভূকৌশলগত লাভ হারিয়েছে। চীন উপলব্ধি করছে, বৈরিতা বাড়ালে ভারত আরও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকবে। আর নয়াদিল্লি দেখছে, ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতায় তাদেরও বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।”
ভারত-চীন সম্পর্ক উষ্ণ হলে এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষের এই অঞ্চলে বসবাস। এখানে প্রভাব ধরে রাখার যে লড়াই চলছে, তাতে বেইজিং-নয়াদিল্লি কাছাকাছি এলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিতভাবেই নতুন চাপে পড়বে
আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au