শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে উল্টো বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২ এপ্রিল তিনি এই যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন। ভেবেছিলেন এতে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে। কিন্তু বাস্তবে ওয়াশিংটনের সেই নীতি রাজনৈতিকভাবে বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথকে টার্গেট করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে গেছে বিশ্বমঞ্চে। বিপরীতে চীনই এখন সেই গ্লোবাল সাউথের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
গ্লোবাল সাউথের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত ও ব্রাজিল ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, তারা পাল্টা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং বেইজিংয়ের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই তিন দেশই আবার ব্রিকসের সদস্য, যেখানে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু তাই নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে এই অ-পশ্চিমা জোটে যোগ দেওয়ার জন্য।
ট্রাম্প এ বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন। তারপর থেকেই মিত্রদের বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে কঠোর আচরণ শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটিকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত রাখা। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। রাশিয়ার পাশাপাশি ভারত চীনের দিকেও ঝুঁকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ মাসেই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াং ই এই সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেছেন, ওয়াশিংটনের শুল্কনীতি বেইজিং দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি নয়াদিল্লি-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার মতে, অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে চুপ থাকলে কেবল শক্তিশালীরা আরও প্রভাবশালী হয়। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হলো—চীনও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করছে, অথচ ট্রাম্প সেখানে কোনো বাধা দিচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতিতে মোদি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে মস্কো পাঠিয়েছেন। তিনি সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা একমত হন যে, ট্রাম্পকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। যদিও সম্প্রতি আলাস্কায় পুতিনকে যেভাবে সংবর্ধনা জানিয়েছেন ট্রাম্প, আবার চীনের প্রতি যে নরম নীতি নিয়েছেন, তাতে পুরো গ্লোবাল সাউথ হতভম্ব হয়ে পড়েছে।
রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au