শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আগামী সপ্তাহে উত্তর চীনের বন্দরনগর তিয়ানজিনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)–এর শীর্ষ সম্মেলনে ২০-এর বেশি বিশ্বনেতাকে একত্রিত করতে যাচ্ছেন। ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনকে অনেকেই দেখছেন চীনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এক নতুন বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হিসেবে। একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যও বয়ে আনতে পারে।
মোদি–পুতিন–সি এক মঞ্চে
এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সাত বছরের বেশি সময় পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনে সফরে যাচ্ছেন। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেষবার সি চিন পিং, পুতিন ও মোদি একই মঞ্চে একত্র হয়েছিলেন গত বছরের ব্রিকস সম্মেলনে, রাশিয়ার কাজানে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নেতারা তখন পুতিনকে উপেক্ষা করলেও এবার চীন ও ভারত মস্কোর কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রভাব মোকাবিলার কৌশল
চীন স্পষ্টভাবে এ সম্মেলনকে ব্যবহার করতে চাইছে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে, যা মার্কিন নেতৃত্বাধীন নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য চায়না–গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্ট–এর প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডারের মতে, গত কয়েক মাসে হোয়াইট হাউস চীন, রাশিয়া, ইরান ও ভারতের প্রভাব মোকাবিলায় উদ্যোগ নিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। তাই এসসিও সম্মেলনের মাধ্যমে বেইজিং একপ্রকার শক্তি প্রদর্শনের কূটনৈতিক মঞ্চ তৈরি করেছে।
সম্প্রসারণ ও সীমাবদ্ধতা
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিও প্রথমে ছয়টি ইউরেশীয় দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোট ছিল। এখন এর স্থায়ী সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০, পাশাপাশি ১৬টি সংলাপ সহযোগী ও পর্যবেক্ষক দেশ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এটি অর্থনীতি, সামরিক সহযোগিতা, এমনকি জলবায়ু বিষয়ক আলোচনাতেও প্রসারিত হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসসিওর বাস্তবায়ন কাঠামো অনেকটাই অস্পষ্ট। নিরাপত্তা সমস্যার কার্যকর সমাধানে এর সক্ষমতা সীমিত। এটি মূলত নেতাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তাঁরা নিজেদের অবস্থান বিশ্বে তুলে ধরতে পারেন।
ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বের ছায়া
প্রধান সদস্য ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব এখনো বড় বাধা। গত জুনে এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়নি কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর হামলার উল্লেখ না থাকায়। এতে ভারত তীব্র আপত্তি তোলে। ফলে এসসিওর ভেতরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সীমান্তে সম্পর্ক স্বাভাবিকের ইঙ্গিত
তবে বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, এই সম্মেলনে চীন–ভারত সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে কিছু ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে। যেমন—সৈন্য প্রত্যাহার, বাণিজ্য ও ভিসা সীমাবদ্ধতা শিথিল, জলবায়ু ইস্যুতে সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ। পাঁচ বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশ কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে, যা মোদি–সি বৈঠকে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে।
গুরুত্ব দৃশ্যমানতায়
যদিও এই সম্মেলন থেকে বড় কোনো নীতি ঘোষণার প্রত্যাশা নেই, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এর আসল গুরুত্ব হলো দৃশ্যমানতা—বিশ্বমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারতের একত্র উপস্থিতি। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনের পর মোদির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আর পুতিন বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দীর্ঘ সময় চীনে অবস্থান করবেন। রাশিয়ার বাইরে তাঁর এ ধরনের অবস্থান সচরাচর দেখা যায় না, যা এ সম্মেলনের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au