শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৮ আগষ্ট- প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস) প্রতিরোধে বিশ্বের প্রথম টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। যদি এ প্রকল্প সফল হয়, তবে এটাই হবে বিশ্বে প্রথম এইডস প্রতিষেধক।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাত দিয়ে রাশিয়া টুডে জানিয়েছে, দেশটির সরকারি চিকিৎসা ও অনুজীববিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার ইতোমধ্যেই টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই বা তারও আগে টিকা বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টারের মহামারিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির গুশচিন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সর্বাধুনিক এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই টিকা তৈরি হচ্ছে। প্রচলিত টিকা তৈরির মতো মৃত বা প্রক্রিয়াজাত জীবাণু নয়, বরং এমআরএনএ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় এক ধরনের প্রোটিন, যা শরীরে প্রবেশের পর মানবদেহের সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
গুশচিন বলেন, “এই টিকার মূল উপাদান হবে এক ধরনের প্রতিষেধক তরল বা অ্যান্টিজেন, যা দেহে বিস্তৃতভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। আমরা ইতোমধ্যেই এর কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, আগামী দু’বছরের মধ্যে আমরা এইডসের টিকা বাজারে আনতে পারব।”
এইডস আসলে রোগ ও উপসর্গের সমষ্টি। হিউম্যান ইমিউনো ভাইরাস (এইচআইভি) মানবদেহে প্রবেশ করলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায়, ফলে রোগী সহজেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইডস শনাক্ত হয় এবং সে বছরই দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি ভাইরাসটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করে।
মূলত অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সিরিঞ্জের সূঁচ ব্যবহার ও মায়ের দেহ থেকে নবজাতকের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। সাহারা-উপসাহারা আফ্রিকায় এইডসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এইডসে মারা যান। তবে ২০১০ সালের পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৪ সালে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম।
এর আগে বিভিন্ন দেশ এইডসের টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে রাশিয়ার গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার ইতিপূর্বে বিশ্বের প্রথম করোনা টিকা স্পুটনিক-ভি তৈরি করেছিল, যার কার্যকারিতা ছিল ৯৭ শতাংশেরও বেশি। সেই টিকা ৭০টিরও বেশি দেশে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সূত্র: আরটি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au