ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) চেয়ারম্যান ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেছেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। দুর্নীতি এখনও রয়ে গেছে। তবে তা বেড়েছে নাকি কমেছে—এখনই স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে টিআইবি এই আয়োজন করে।
দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, “সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। গত বছরের আগস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও দুর্নীতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যেসব দেশ সঠিকভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছে, তারাই দুর্নীতি ধারণা সূচকে নিজেদের অবস্থান উন্নত করেছে।”
টিআই চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র সরকারের পরিবর্তন বা নীতিগত ঘোষণায় এর সমাধান সম্ভব নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই কেবল এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি আসবে।
বাংলাদেশ সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ জানান, এ সফর প্রতীকী নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সফরের আগে আমি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় গিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং সবার কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকার।”
টিআই চেয়ারম্যানের মতে, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।