সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…
বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন চারজন। চলতি বছরে এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড ছিল।
নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ সময়ের আবহাওয়া এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারের জন্য অনুকূল থাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং রোগের বিস্তার নিয়ে নজরদারি ও পূর্বাভাস মডেল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন।
তার মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপের সর্বোচ্চ পর্যায় এখনও আসেনি। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাতেও নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের শয্যা পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। চলতি বছরের পরিস্থিতি নতুন করে ২০২৩ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ওই বছর বাংলাদেশে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব।
এদিকে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চলতি বছর দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ফলে একই সময়ে একাধিক সংক্রামক রোগের বিস্তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান দ্রুত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং বংশবিস্তার করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া, নিয়মিত রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, মশার ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সেপ্টেম্বর মাসকে ডেঙ্গুর জন্য উচ্চঝুঁকির সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে সংক্রমণের গতি কমাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রুত বাড়তে থাকা রোগীর সংখ্যা সামাল দিতে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করারও প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুতর রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনা এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রঃ খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au