ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭
বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার পর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার গেল কোথায়?
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস বাড়ি থেকে প্রায় ছয়-সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার। অর্থাৎ পুলিশের হিসাবে যে পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তার বড় অংশই এখনো উদ্ধার হয়নি।
আর এখানেই তদন্ত নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাকি স্বর্ণ কোথায়, তা জানতে পুলিশ কী কী জায়গায় অনুসন্ধান করেছে? স্বর্ণ বিক্রি করা হয়েছে কি না, গলিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, অন্য কারও কাছে রাখা হয়েছে কি না কিংবা স্বর্ণের কারিগরি পেশার সঙ্গে যুক্ত কারও মাধ্যমে এর অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্বে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি স্বর্ণের হদিস পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
পুলিশের এই বক্তব্যই এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম স্বর্ণালংকার তৈরির কারিগরি কাজের সঙ্গে যুক্ত। সিদ্ধার্থ নিজেও প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, স্বর্ণের কারিগরি সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তির হাতে চুরি যাওয়া স্বর্ণ গেলে সেটি গলিয়ে বা আকার পরিবর্তন করে ফেলার সুযোগ ছিল কি না। আর যদি এমন আশঙ্কা থাকে, তাহলে পুলিশ কি সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি দোকান, স্বর্ণের কারিগর, গলানোর কারখানা কিংবা স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে?
এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী। তিনি শুধু বলেছেন, বাকি স্বর্ণের হদিস পাওয়া সম্ভব নয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর দুই আসামি বাড়ির তিনটি কক্ষের আলমারি খুলে কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন। এরপর তারা ১৫ হাজার টাকা এবং ছয়-সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
তদন্তে আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের হিসাবে ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার কথা হলে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ মোট পরিমাণের তুলনায় অনেক কম।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। স্বর্ণের ওজনের যে হিসাব পুলিশ বলছে, সেটি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। নিহত পরিবারের সদস্যদের স্বজনদের কাছ থেকে গয়নার তালিকা নেওয়া হয়েছিল কি না, কোন গয়না নিখোঁজ হয়েছে, সেগুলোর আনুমানিক ওজন কত ছিল এবং উদ্ধার হওয়া গয়নার সঙ্গে সেগুলোর মিল কতটুকু, এসব তথ্য তদন্তের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, চুরি যাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণের ভিত্তি পরিষ্কার না হলে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ দিয়ে মোট চুরির পরিমাণ যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাগুলোর একটি হতে পারে, চুরি করা স্বর্ণ অপরাধের পর দ্রুত অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না।
সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করতেন বলে পুলিশেরই বক্তব্য। ফলে স্বর্ণের প্রকৃতি পরিবর্তন, গলানো কিংবা নতুন অলংকার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা থাকার কথা।
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের প্রকাশ্য বক্তব্যে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে, তারা রংপুরের জুয়েলারি দোকানগুলোতে চুরি যাওয়া স্বর্ণ বিক্রি বা গলানোর বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে। কোনো দোকান বা কারিগরের কাছে সন্দেহজনক স্বর্ণের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
আর যদি তদন্তকারীদের কাছে এমন কোনো তথ্য না থাকে, তাহলে ছয়-সাত ভরি স্বর্ণের বড় অংশকে ‘উদ্ধার সম্ভব নয়’ বলে ধরে নেওয়ার যৌক্তিক ভিত্তি কী, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
শুধু স্বর্ণ নয়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কথিত ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়েও তদন্তে বড় ধরনের অসঙ্গতি সামনে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় এমন প্রচার ছিল যে রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর নেওয়ার পর গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রেখেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করেন বলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া যায়।
কিন্তু পরবর্তী তদন্তে পুলিশ দেখতে পেয়েছে, গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের আগে ব্যাংক থেকে ওই ধরনের কোনো টাকা তোলেননি।
ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তীর তিন-চারটি ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। হত্যার আগে তিনি ব্যাংক থেকে কোনো টাকা তোলেননি।
তাহলে ৫০-৬০ লাখ টাকার তথ্য আসামিরা কোথা থেকে পেলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যদি টাকা তোলার ঘটনা না ঘটে থাকে, তাহলে এত বড় অঙ্কের অর্থ বাড়িতে থাকার তথ্য কে বা কারা ছড়িয়েছিল, সেই তথ্য আসামিদের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা কেন ওই বাড়িকে লক্ষ্য করেছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এটি নিছক গুজব ছিল, নাকি পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে কারও কাছ থেকে পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই মামলায় সবচেয়ে বড় অসঙ্গতিগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে হত্যার উদ্দেশ্য বা মোটিভ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে।
হত্যাকাণ্ডের পর রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ডাকাতির উদ্দেশ্য এবং হত্যার পর ডাকাতির ঘটনা সাজানোর কথাও সামনে আনে। ২৪ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের খবরেও পুলিশের ইয়াবা-সংক্রান্ত প্রাথমিক ভাষ্য উঠে আসে।
এরপর পুলিশের দ্বিতীয় দফার বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার রাতে আসামিরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করেন। পরে ভোরে গণপতি ছাদে হাঁটতে গেলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার স্ত্রী ও মেয়েকে এবং পরে ১২ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
কিন্তু বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি বলছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াই হত্যার কারণ নয়। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়িতে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
অর্থাৎ একই মামলায় পুলিশের বক্তব্যের তিনটি স্তর দেখা যাচ্ছে। প্রথমে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে ডাকাতির বিষয়টি এসেছে। আর বর্তমানে তদন্তকারী ডিবি বলছে, পরিকল্পিতভাবে টাকা ও স্বর্ণ চুরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
এই পরিবর্তন শুধু বক্তব্যের পার্থক্য নয়, তদন্তের দিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়।
ডিবির বর্তমান তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর পাশের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি ব্যবহার করে বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন।
দ্বিতীয় তলায় আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং দুই সন্তান। ভোররাতে শব্দ পেয়ে গণপতি ছাদে গেলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাদের হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছরের ছেলেকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হত্যার পরও দুই আসামি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বাড়ির ভেতরেই কিছু সময় অবস্থান করেন। গোসল করেন, খেজুর ও শসা খান এবং তিনটি আলমারি খুলে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন। এরপর টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে চলে যান।
এই সময়ের ব্যবধানও স্বর্ণ উদ্ধারের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, হত্যার পর বাড়িতে থাকা সময়ের মধ্যে তারা স্বর্ণ কোথায় রেখেছিলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে কী নিয়েছিলেন এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কোন পথে গিয়েছিলেন, সেসব তথ্য সিসিটিভি, মোবাইল ফোনের অবস্থান ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেছেন, চার খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। ছবি: সংগৃহীত
ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তবে এখন পর্যন্ত সেসব পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্তকারীদের হাতে আসেনি।
ফলে ঘটনাস্থলের আলামত থেকে পাওয়া সম্ভাব্য তথ্যও এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি।
এখানে প্রশ্ন হলো, চুরি যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি স্বর্ণের মালিকানা ও গতিপথ শনাক্ত করার জন্য কি জুয়েলারি ব্যবসা ও স্বর্ণ গলানোর কারিগরি নেটওয়ার্কের দিকে তদন্ত নেওয়া হয়েছে?
কারণ, নগদ টাকা দ্রুত খরচ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু স্বর্ণের ক্ষেত্রে গলানো, বিক্রি, বন্ধক রাখা বা নতুন অলংকারে রূপান্তরের মতো একাধিক সম্ভাব্য গতিপথ থাকে।
১ সেপ্টেম্বর কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, আলামত এবং নতুন পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের কথাও পুলিশ জানিয়েছে।
কিন্তু সেই জিজ্ঞাসাবাদের পরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি রয়ে গেছে, বাকি স্বর্ণ কোথায়?
আসামিদের দেওয়া তথ্য যদি ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধারে কাজে লাগে, তাহলে বাকি স্বর্ণের বিষয়ে একই তথ্য কেন পাওয়া যাচ্ছে না, সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।
আসামিরা যদি দাবি করে থাকেন যে তারা ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছেন, তাহলে সেই স্বর্ণের প্রতিটি অংশের গতিপথ আলাদা করে যাচাই করা সম্ভব কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ৩০ আগস্ট ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবেদনে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার সময় তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন কি না, তা শুধু পরে করা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত বা বাতিল করা যায় কি না, সেটি ফরেনসিক ও তদন্তের বিষয়। ফলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ইয়াবা সেবনের যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটিও এখন আরও যাচাইয়ের দাবি রাখে।
গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় দুই আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত এগোলেও কয়েকটি প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়।
ছয়-সাত ভরি স্বর্ণের মধ্যে ১ ভরি ৫ আনা উদ্ধার হওয়ার পর বাকি স্বর্ণ কোথায় গেল?
স্বর্ণের সঠিক মোট পরিমাণ নির্ধারণের ভিত্তি কী?
সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করলেও বাকি স্বর্ণের গতিপথ শনাক্ত করতে তার কর্মস্থল, পরিচিত কারিগর ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের কতটা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে?
৫০-৬০ লাখ টাকা বাড়িতে থাকার তথ্য আসামিদের কাছে কে বা কারা পৌঁছে দিয়েছিল?
গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে টাকা না তুললেও তার বাড়িতে বিপুল অর্থ থাকার তথ্য কেন ছড়িয়েছিল?
হত্যার উদ্দেশ্য প্রথমে ইয়াবা সেবনে বাধা, পরে ডাকাতি এবং এখন পরিকল্পিত চুরি বলা হচ্ছে কেন?
ঘটনার রাতে আসামিরা বাড়িতে ঠিক কতক্ষণ ছিলেন এবং ওই সময়ে তারা কী কী সরিয়েছেন?
ঘটনার পর তারা কোন পথে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন এবং তাদের চলাচলের কোনো সিসিটিভি বা ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না?
সবশেষে, ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হলে বাকি স্বর্ণের বিষয়ে তদন্তকারীরা কেন বলছেন, ‘হদিস পাওয়া সম্ভব নয়’?
চারটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে চুরি যাওয়া সম্পদের গতিপথ। কারণ, স্বর্ণ কোথায় গেছে তা বের করা গেলে শুধু হত্যার উদ্দেশ্যই নয়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং ঘটনার পর আসামিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
এই মুহূর্তে তাই মামলার তদন্তের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু হত্যার দায় স্বীকার করানো নয়, বরং চুরি যাওয়া স্বর্ণের সম্পূর্ণ হিসাব বের করা এবং হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশের পরিবর্তিত বক্তব্যের সঙ্গে আলামত ও ফরেনসিক তথ্যের মিল খুঁজে বের করা।
মামলাটি থানা থেকে অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি নির্ভর করবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, ব্যাংক হিসাব, ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন, আসামিদের জবানবন্দি এবং ঘটনার পর তাদের গতিবিধির মধ্যে কতটা নির্ভরযোগ্য যোগসূত্র পাওয়া যায় তার ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au