মেহের আফরোজ শাওনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দাবি জিডিপির
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জিডিপি)। একই সঙ্গে সংগঠনটি আওয়ামী…
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের ঐতিহাসিক শহর যোগ্যকর্তার এক মোড়ে চোখে পড়ার মতো এক গ্রাফিতি। সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা— “সিস্টেম রিসেট করুন।” তাড়াহুড়ো করে আঁকা, সবুজ ও গোলাপি রঙে ভরপুর এই বার্তাটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়; এটি এখন পুরো দেশের এক বিক্ষুব্ধ বাস্তবতার প্রতীক।
গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরে শুরু হয় সহিংস বিক্ষোভ। দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ—
এই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সবুজ ও গোলাপি রঙ। যেখানে সবুজ রঙ চিহ্নিত করছে শ্রমজীবী ও ডেলিভারি কর্মীদের সংগ্রাম, আর গোলাপি রঙ প্রতীক হয়ে উঠছে সাহসী নারীদের নেতৃত্বের।
২১ বছর বয়সী ডেলিভারিম্যান আফফান কুরনিয়াওয়ান আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। গত বৃহস্পতিবার সবুজ রঙের জ্যাকেট পরে খাবার পৌঁছে দিতে বের হয়েছিলেন তিনি। পথে আধা-সামরিক পুলিশের একটি সাঁজোয়া গাড়ি তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন আফফান।
তার মৃত্যু ডেলিভারি কর্মীসহ নানান খাতের শ্রমজীবীদের ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করে তোলে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেলিভারি খাতে বেতন কমানো ও কর্মঘণ্টা বাড়ানোর কারণে ক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠেছিল আগেই।
রাজধানী জাকার্তায় প্রতিনিধি পরিষদ ভবনের বাইরে এক নারী গোলাপি হিজাব পরে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে তার প্রতিবাদ আন্দোলনে নতুন মাত্রা আনে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবিতে সবুজ-গোলাপি ফিল্টার যোগ করছেন। অফিসকর্মী দিলা (২৮) বলেন,
“আমাদের এখন একাত্মতা প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার আনতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলতে পারে না।”
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এমন শ্লোগান তুলেছেন—
“সাহসী গোলাপি, বীর সবুজ।”
বিক্ষোভের চাপে সরকার ও সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিলাসী সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
এই প্রস্তাবে ছিল—
অন্যদিকে অর্থনীতি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটি দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর সুফল সাধারণ জনগণ পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের অভিযোগ— দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক শ্রেণি নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে, অথচ বৈষম্য ভয়াবহভাবে বেড়েই চলেছে।
বিক্ষোভে নিহত ও আহত
বুধবার এক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্য এক সংস্থা জানিয়েছে, ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বিক্ষোভকারীদের কিছু পদক্ষেপকে “রাষ্ট্রদ্রোহিতা” ও “সন্ত্রাসবাদ”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তার এই বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন নারী অধিকার সংগঠন পেরেমপুয়ান মাহারধিকার-এর সদস্য মুতিয়ারা ইকা প্রাতিউই।
তিনি বলেন,
“সমস্যার মূলে জনগণ নয়। বরং কখনো আমাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়নি। তাই আমাদের প্রতিবাদের অধিকার আছে।”
আফফানের মৃত্যুর পর জন্ম নেওয়া সবুজ-গোলাপি আন্দোলন এখন এক নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়, বরং দুর্নীতি, দায়মুক্তি, দমননীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমানে সহিংসতা কিছুটা স্তিমিত হলেও আন্দোলনের বার্তা স্পষ্ট—
“সিস্টেম রিসেট চাই।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au