ইয়েমেনে আটক জাতিসংঘ কর্মীরা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত । ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন ৫ সেপ্টেম্বর- ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাতিসংঘ কর্মীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যাদের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের পক্ষে তথ্য সরবরাহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম (WFP) ও ইউনিসেফের কর্মীরাও আছেন। এরা মূলত শিশুদের জন্য ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে হুতিদের দাবি, মানবিক সহায়তার আড়ালে তারা গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছিলেন।
অভিযোগ সম্পর্কে হুতি কর্মকর্তার ভাষ্য—
“যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, একটি ইয়েমেনি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে শনিবার আরো কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর। ওই হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি, ৯ জন মন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার দুই কর্মকর্তা নিহত হন। গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এটাই সবচেয়ে বড় প্রতিশোধমূলক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
গত এক দশক ধরে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হুতিরা। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের ওপর। হুতিদের দাবি, এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতেই নেওয়া হয়েছে।
রবিবারের গ্রেপ্তারের আগে থেকেই হুতিদের হাতে অন্তত ২৩ জন জাতিসংঘ কর্মী আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ২০২১ সাল থেকে কারাগারে আছেন। এছাড়া হুতিরা গত জুনে দাবি করে, তারা একটি মার্কিন-ইসরায়েলি গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে, যারা মানবিক সংস্থার ছদ্মবেশে ইয়েমেনে কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
জাতিসংঘ অবশ্য এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক ত্রাণকর্মীরা কেবল সাধারণ মানুষকে সহায়তা করছেন, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যে কাজ করছেন না।
সুত্রঃ এএফপি