‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ সিনেমার শিল্পী ও কলাকুশলী। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- পৃথিবীর প্রাচীনতম চলচ্চিত্র উৎসব ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল–এর ৯৩ বছরের ইতিহাসে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা আগে ঘটেনি। এবারের আসরে প্রদর্শিত হলো ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব। সিনেমাটি দেখে দর্শকেরা এতটাই আবেগে আপ্লুত হন যে প্রদর্শনী শেষে টানা ২২ মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালি দেন। উৎসবের ইতিহাসে এটিই এখন দীর্ঘতম স্ট্যান্ডিং ওভেশন।
প্রথমে মনে করা হয়েছিল ২০ মিনিট পর আলো নিভিয়ে দিলে হাততালি থেমে যাবে। কিন্তু না, দর্শকেরা হাততালি চালিয়ে যান। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে, মুখে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগান দিয়ে সেই মুহূর্তে ভেনিসের পরিবেশ যেন রূপ নেয় এক টুকরা ফিলিস্তিনে।
সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে ঘিরে। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজায় রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবীরা এক ফোন কল পান। একটি গাড়িতে আটকে পড়া এক পরিবার সাহায্য চাইছিল। হামলার পর একমাত্র জীবিত ছিলেন শিশু হিন্দ। ফোনে কাঁদতে কাঁদতে সে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে অনুরোধ করছিল তাকে বাঁচানোর জন্য।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বেচ্ছাসেবীরা পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সেই ছোট্ট শিশুটির জীবন শেষ হয়ে যায়। হিন্দের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সেই হৃদয়বিদারক কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও ব্যবহার করা হয়েছে সিনেমায়।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’
চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারে একাধিকবার মনোনয়ন পাওয়া তিউনিসিয়ান পরিচালক কুসারু বিন হানিয়া। সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হলিউডের অনেক তারকাও। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন ব্র্যাড পিট ও হোয়াকিন ফিনিক্স। এ ছাড়া ‘রোমা’-খ্যাত আলফোনসো কুয়ারন, অভিনেত্রী রুনি মারা, ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’ নির্মাতা জোনাথন গ্লেজার, প্রযোজক ডেডে গার্ডনার ও জেরেমি ক্লেইনারও ছিলেন এ ছবির সঙ্গে।
ফলে ছবিটির প্রতি দর্শক, সমালোচক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর ছিল তীব্রভাবে।
ভেনিস উৎসবে ৩ সেপ্টেম্বর সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ছাড়াও হলিউড থেকে আগত প্রযোজক ও অতিথিরা। উপস্থিত ছিলেন হোয়াকিন ফিনিক্স ও রুনি মারাসহ অন্য তারকারাও।
হিন্দ রজবকে স্মরণ করে সবাই কালো পোশাক পরে এসেছিলেন এবং হাতে ছিল তার ছবি। পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল শোক ও শ্রদ্ধার আবহ। সিনেমার শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে দর্শকেরা দাঁড়িয়ে পড়েন এবং শুরু হয় ইতিহাস সৃষ্টিকারী ২২ মিনিটের হাততালি।
দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব কেবল একটি সিনেমা নয়; এটি ফিলিস্তিনের শিশুদের করুণ বাস্তবতা ও যুদ্ধের নির্মমতার দলিল। সমালোচকরা বলছেন, এই সিনেমা দর্শকদের মনে শুধু সহানুভূতি নয়, ন্যায়বিচারের প্রশ্নও জাগিয়েছে।
ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এবারের আসরে সিনেমাটি শুধু শিল্পমানেই নয়, মানবিক বার্তাতেও হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আলোচিত সৃষ্টি।