মার্ক জাকারবার্গ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- নামের বিভ্রাট কতটা ভয়াবহ বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একজন আইনজীবী—মার্ক স্টিভেন জাকারবার্গ। নামের আশ্চর্য মিলের কারণে তাঁকে বারবার সমস্যায় ফেলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।
আইনজীবী মার্ক এস. জাকারবার্গ অভিযোগ করেছেন, ফেসবুক তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টকে বারবার স্থগিত করেছে এবং তাঁকে ‘একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধারণের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। অথচ তিনি কোনো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেননি, বরং তাঁর নিজের আসল নামই ব্যবহার করেছেন।
প্রবীণ এই আইনজীবীর নামের সঙ্গে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গের নামের মিল থাকায় এই বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। গত আট বছরে তাঁর অ্যাকাউন্ট অন্তত পাঁচবার বন্ধ হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। মামলার নথিতে উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনায় তিনি হাজার হাজার ডলার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিএইচআর–এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আইনজীবী জাকারবার্গ হতাশা প্রকাশ করে বলেন,
“আমি মার্ক স্টিভেন। আর উনি মার্ক এলিয়ট। পার্থক্যটা খুব পরিষ্কার। অথচ এই মিলের কারণে আমাকে বছরের পর বছর হয়রানি সহ্য করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটা কোনো হাসির বিষয় নয়। বিশেষ করে যখন আমার নিজের টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনা আমাকে সত্যিই ক্ষুব্ধ করেছে।”
আইনজীবী জাকারবার্গ ক্ষতিপূরণের জন্য এক ধরনের রসিকতাপূর্ণ কিন্তু কড়া প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা যদি বিমানে করে এসে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান অথবা তাঁকে তাঁর বিলাসবহুল ইয়টে এক সপ্তাহ কাটানোর সুযোগ দেন, তাহলে তিনি এই ক্ষতিপূরণ মেনে নিতে প্রস্তুত।
অভিযোগের জবাবে ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, আইনজীবীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুল আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মেটা বলেছে, “আমরা জনাব জাকারবার্গের দীর্ঘ ধৈর্যের প্রশংসা করি এবং একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছি।”
এই মামলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
- অনেকের মতে, নামের মিলের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রতি বৈষম্য করা অন্যায্য।
- অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের ভুল এড়ানো কঠিন।
এদিকে মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গকে দেখা গেছে হোয়াইট হাউসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত প্রযুক্তি টাইটানদের এক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রসঙ্গ উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “এআই আমাদের দেশকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাচ্ছে।”
একজনের নামের মিল অন্যজনের জন্য এমন বড় বিড়ম্বনা তৈরি করবে, তা হয়তো মার্ক স্টিভেন জাকারবার্গ কখনোই ভাবেননি। তবে এখন তিনি শুধু নামের বিভ্রাট দূর করার জন্যই নয়, নিজের মর্যাদা রক্ষার জন্যও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলার রায় কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূূূত্রঃবিবিসি