ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হলো। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হলো আরও ৩০ বাংলাদেশিকে। অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে এবার তাদের ফেরত পাঠিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাদের বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট। ফেরত আসাদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। বিমানবন্দরে নেমে কেউই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী কিংবা অভিবাসন আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এর আগে তিন ধাপে মোট ১৮৭ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে এ দফায় আরও ৩০ জন ফিরলেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হলো।
ফেরত আসাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তবে তাদের আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ডিপোর্টেশনের তালিকায় নাম ওঠে। কেউ কেউ কয়েক বছর কাজ করে পরিবারকে টাকা পাঠিয়েছিলেন, আবার কেউ সম্প্রতি সেখানে পৌঁছেছিলেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে থাকা এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসনবিরোধী নীতি কঠোর হওয়ায় যেকোনো সময় আটকের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশি অভিবাসন অধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, ফেরত আসাদের অনেকেরই পরিবার এখন আর্থিক সংকটে পড়বে। তাঁরা মনে করছেন, অভিবাসন আইন মেনে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার বিকল্প নেই।