ফরিদা পারভীন ছবি: প্রথম আলো
মেলবোর্ন ৫ সেপ্টেম্বর- দেশবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। নিয়মিত ডায়ালাইসিস চললেও ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিস শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন—
“ডায়ালাইসিসের পর ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বর্তমানে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। কিডনি জটিলতার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দিচ্ছি। দিনের যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে।”
ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল বলেন—
“আম্মাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হয়।”
যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম, ফরিদা পারভীনের স্বামী, জানান—
“সার্বিকভাবে তাঁর অবস্থা ভালো নয়। গত কয়েক মাসে চারবার আইসিইউতে নিতে হয়েছে। ফুসফুস ও কিডনি জটিলতার কারণে শরীর খুব দুর্বল। তিনি এখন দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারেন না। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা পারভীনের কিডনির পাশাপাশি ফুসফুসের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েড জটিলতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বমি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গেয়ে সংগীতাঙ্গনে পথচলা শুরু করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতে তালিম নেন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। নতুন প্রজন্মকে লালনের গান শেখানোর জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘অচিন পাখি স্কুল’।
দেশের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি এই শিল্পীর অসুস্থতার খবরে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষসহ ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন।