‘রক্তিম চাঁদ’ রবিবার রাতের আকাশে মহাজাগতিক এক অপূর্ব দৃশ্য ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- রাতের আকাশ মানেই বিস্ময়ের মেলা। সেই বিস্ময় আরও রঙিন হয়ে উঠতে চলেছে আসছে রোববার রাতে। বাংলাদেশের আকাশ থেকে দৃশ্যমান হবে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। আর এই সময়েই চাঁদ রক্তিম আভায় ঝলমল করে উঠবে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘ব্লাড মুন’।
কিভাবে ঘটে চন্দ্রগ্রহণ
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়। এর ফলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের গায়ে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে চাঁদ অন্ধকারে ঢেকে যায়। কিন্তু পুরো অন্ধকার নয়—বরং এক অনন্য লালচে, কমলা কিংবা বাদামি রঙে চাঁদ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
এর বৈজ্ঞানিক কারণ হলো রেইলি স্ক্যাটারিং। সূর্যের আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে, তখন বাতাসের গ্যাস ও ধূলিকণা ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। বিপরীতে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো বাধাহীনভাবে বেঁকে গিয়ে পৌঁছে যায় চাঁদের গায়ে। তাই গ্রহণের সময় চাঁদ মনে হয় যেন রক্তে রাঙানো।
এই বিরল দৃশ্য রোববার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে শুরু হবে। ধাপে ধাপে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করতে থাকবে।
- পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে
- চলবে সোমবার রাত ১২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত
- রাত ২টা ৫৫ মিনিটে চাঁদ পৃথিবীর ছায়া থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসবে
আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকেই খালি চোখে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাবে।
বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষই এবারের চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
- এশিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে দেখা যাবে পুরো দৃশ্য।
- ইউরোপ, আফ্রিকা, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কিছু অঞ্চল থেকেও আংশিক দৃশ্য দেখা যাবে।
চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ কোনো চশমা বা সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে। তবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে চাঁদের গর্ত, ছায়া ও রক্তিম আভার বিভিন্ন স্তর।
গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে পরিষ্কার ও দীর্ঘস্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ফলে রবিবার রাতের আকাশে চন্দ্রগ্রহণ ও ‘ব্লাড মুন’ একসঙ্গে দেখতে পারা, হবে নিঃসন্দেহে এক বিরল অভিজ্ঞতা।
সূত্র: এনডিটিভি