‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনে ভারত ও চীনের সম্পর্ক এক নতুন মোড় নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। শি জিনপিং বলেছেন, ভারত ও চীন বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের প্রধান অংশীদার। তার মতে, দুই দেশের বন্ধুত্ব এবং একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখার মতো অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। একই সুর শোনা গেছে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যেও। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সহযোগিতার সঙ্গে ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত, আর ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও দুই দেশের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ভারত শিগগিরই পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি হতে যাচ্ছে, আর চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি। ফলে তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো, সীমান্ত বিরোধ, ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, দালাই লামা ইস্যু এবং নিরাপত্তা সংকট এখনো সম্পর্ককে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
এমন সময়ে পাকিস্তানও আলোচনায় এসেছে। শাহবাজ শরিফ তার বক্তৃতায় পুনরায় নিশ্চিত করেছেন চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের দৃঢ়তা। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানই প্রথম মুসলিম দেশ যারা চীনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং এই বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নত হলেও তা ইসলামাবাদের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। তবে বাস্তবিক অর্থে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূমিকা যদি ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়, তবে পাকিস্তানকে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদীর এই বৈঠক একটি কৌশলগত বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনের মধ্যে, তখন চীনের দিকে ঝুঁকে ভারত দেখাতে চাইছে তাদের কাছে বিকল্প রয়েছে। পাকিস্তানের জন্য এটি একদিকে স্বস্তির কারণ, কারণ চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট; আবার অন্যদিকে এটি সতর্কবার্তা, কারণ চীন হয়তো দক্ষিণ এশিয়ার ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
তিয়ানজিন বৈঠক থেকে স্পষ্ট বিশ্বের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীন নিজেদের সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। পাকিস্তানের জন্য এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই নতুন সমীকরণে তারা কীভাবে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au