মেলবোর্ন,০৬জুন-সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক। নিহত শামীম হোসেন (৩২) উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস ছালামের ছেলে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে একটি বাসার ছাদে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যার দিকে শুকাতে দেওয়া কাপড় আনতে ছাদে গেলে অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শামীম। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
দুই সন্তানের জনক শামীম হোসেন জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন পূরণ এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মরদেহই দেশে ফিরছে।
ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মা জরিনা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না, তবে শেষবারের মতো তাঁর মরদেহ দেশে দেখতে চান। বাবা আব্দুস ছালাম জানান, ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। পরিবারের জন্য ভালো কিছু করবে, এমন আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এই মৃত্যুসংবাদ তাঁদের অসহায় করে দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির আশায় অনেক কষ্ট করে শামীমকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত করেছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় শামীম হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যু তাঁর পরিবারকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এখন পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন সম্পন্ন করা।