মেলবোর্ন,০৬জুন-লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখা ও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
শুক্রবার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিজিবি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে মোট ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় এসব অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা লাগেজসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়েও নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে খোলা আকাশের নিচে ফসলি জমিতে ওই ১০ জনকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অন্যদিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত দিয়ে আরও ১৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তারাও সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি। বর্তমানে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বুধবার রাতে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন এখনও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে এখনো তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বিজিবির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেছেন, সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কোনো ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিচয় যাচাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অন্তত ১০টি পৃথক পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করা ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।