নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন ৭ সেপ্টেম্বর- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাঁর ভক্ত রাসেল মোল্লা (৩০)। হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
শনিবার সকালে রাজবাড়ীর দেবগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব তেনাপচা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। উঠানে ভিড় করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা আমেনা বেগম। ভাঙা গলায় তিনি বলেন,
“আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি। শুধু নুরুলের ভক্ত ছিল। ওকে দরবার থেকে টেনে এনে মেরেছে। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তুললেও গাড়ি থেকে নামিয়ে আবার পেটালো। আল্লাহর কাছে ওদের বিচার দিলাম।”
ঘরের ভেতর দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কাঁদছিলেন রাসেলের স্ত্রী হাসি আক্তার। চার বছরের মেয়ে ও দুই বছরের ছেলেকে দেখিয়ে তিনি বলেন,
“আমার স্বামী অসুস্থ ছিলেন, কিছুদিন ট্রাক চালাতেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন, সন্ধ্যায় ফিরবেন। কিন্তু আর ফেরা হলো না তাঁর। সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমার এই ছোট ছোট বাচ্চাদের কে দেখবে?”
রাসেল পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন হাসি আক্তারকে। নুরাল পাগলার দরবারে নিয়মিত যাওয়া-আসার কারণে এলাকায় সবাই তাঁকে ওই দরবারের ভক্ত হিসেবেই চিনতেন।
হামলার সময় দরবারে উপস্থিত ছিলেন রাসেলের ছোট ভাই সাজ্জাদ মোল্লা (২২)। তিনিও গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাজ্জাদ বলেন,
“হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে চাপাতি নিয়ে হামলা করে। হাত কেটে যায়। পরে ভবনে আগুন ধরিয়ে দিলে আমি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে বেঁচে যাই। এতে পা ভেঙে গেছে।”
রাসেলের বাবা মো. আজাদ মোল্লা জানান, ফরিদপুর থেকে ছেলের লাশ আনার প্রস্তুতি চলছে। শনিবার আসরের পর স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। মামলা করা হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে পরে জানাব।”
শুক্রবার জুমার নামাজের পর “শরিয়তবিরোধী কবর” দেওয়ার অভিযোগ তুলে একদল লোক দরবার শরিফে হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সময় নুরাল পাগলার ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা একপর্যায়ে দরবার ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং নুরাল পাগলার কবর খুঁড়ে লাশ তুলে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
রাসেলের মৃত্যুতে গোয়ালন্দের গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে একই সঙ্গে রয়েছে আতঙ্কও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের সহিংসতা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au