নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউয়ের আওতা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
কাঠমান্ডুর প্রধান জেলা কর্মকর্তা (চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার) ছবিল রিজাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
প্রথমে বানেশ্বর এলাকায় কারফিউ জারি করা হলেও পরে তা প্রসারিত হয় রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয়—
কারফিউ চলাকালে চলাফেরা, সমাবেশ, বিক্ষোভ বা ঘেরাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘাত এড়াতে নাগরিকদের ঘরে অবস্থান ও সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সরকারের সিদ্ধান্তে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার পর। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, নেপালের নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যদিও টিকটক, ভাইবার ও আরও তিনটি প্ল্যাটফর্ম সরকারের শর্ত মেনে নিবন্ধিত হওয়ায় সেগুলো এখনো চালু রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় মাধ্যম বন্ধ থাকায় তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, রাস্তায় নেমে আসে।
বিক্ষোভের অগ্রভাগে ছিলেন তরুণরা। তাঁদের দাবি—
শুরুতে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে ফেলেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল ও পানির বোতল নিক্ষেপ করে এবং স্লোগান দিতে দিতে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে তরুণদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চাইছে। তাঁদের মতে,
“দুর্নীতি বন্ধ না করে সরকার বরং গণমাধ্যম বন্ধ করছে।”
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। নাগরিকেরা বাড়িঘরে অবস্থান করছেন।
সরকার বলছে, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখতেই কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভের আগুন থামাতে পারবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আরও দীর্ঘায়িত হলে আন্দোলন বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au