ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নেপাল এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগের পর দেশজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে নেবেন, তা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা। এই প্রেক্ষাপটে জেনারেশন–জি বা তরুণ প্রজন্ম তাদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেছে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অলি পদত্যাগ করার পরপরই সেনাবাহিনী দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েন করা হয়। টানা বিক্ষোভে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা কর্মকর্তারা তরুণদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বুধবার প্রথম দফা বৈঠক হয়; বৃহস্পতিবারও আলোচনার আরেক দফা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট রয়টার্সকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি ওজাশ্বি রাজ থাপা জানান, তরুণেরা সরকারের নেতৃত্বে সুশীলা কারকিকে দেখতে চান। এই নাম তারা প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করেছেন।
ওজাশ্বি রাজ থাপা স্পষ্ট করে বলেন, বিক্ষোভকারীরা চান পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হোক। তবে সংবিধান বাতিলের পক্ষে তারা নন; বরং সংশোধন করলেই যথেষ্ট হবে। তরুণেরা ক্ষমতার অংশীদার হতে চান না বলে জানিয়ে দেন আরেক প্রতিনিধি সুদান গুরুং। তার ভাষায়, “আমরা কোনো পদ চাই না, চাই প্রকৃত সংস্কার।”
কে এই সুশীলা কারকি?
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন। সাহসী ও নীতিতে অটল বিচারক হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। অবসরে যাওয়ার পরও তিনি জনমনে সম্মানিত নাম। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাবে তিনি সম্মত হয়েছেন এবং এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
তবে তাকে নিয়োগের সাংবিধানিক জটিলতা আছে। নেপালের আইন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা বিচারিক দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনো সরকারি পদ নিতে পারেন না। এই কারণে সুশীলার প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ বিক্ষোভকারী। এছাড়া তার বয়স নিয়েও আপত্তি রয়েছে তরুণদের মধ্যে একটি অংশের।
সুশীলা কারকির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আরেকটি জনপ্রিয় নাম উঠে এসেছে—কুলমান গিসিং। তিনি নেপালের বিদ্যুৎ বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তরুণদের একটি অংশ তার পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছে।
এর আগে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র এবং জনপ্রিয় তরুণ র্যাপার বালেন্দ্র শাহর নামও আলোচনায় ছিল। তবে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সুশীলা কারকির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি, বেকারত্ব, বৈষম্য ও রাজনীতিবিদদের স্বজনপ্রীতি নিয়ে নেপালের জনগণের ক্ষোভ জমে ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত—২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া। এ সিদ্ধান্ত ছিল তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটার প্রধান কারণ।
সোমবার থেকে বিক্ষোভে নামে হাজারো তরুণ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সেদিনই ১৯ জন নিহত হন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪–এ, আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করা হয়েছে, বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ ও দোকানপাট। তবে জরুরি সেবা চালু রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতন্ত্র রক্ষায় দ্রুত সমাধান আসবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সব বিক্ষোভকারী সুশীলা কারকির নাম সমর্থন না করলেও তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ তাকে একজন সাহসী ও অনমনীয় মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করছে। কাঠমান্ডুর এক যুবক সুজিত কুমার ঝা বলেন, “আমরা সুশীলাকে বিশ্বাস করি। তিনি অন্যদের মতো নন।”
তবে ভেতরে ভেতরে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সর্বসম্মত প্রার্থী বাছাই করতে সেনা ও তরুণদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। আর পুরো নেপাল এখন তাকিয়ে আছে—কে হবেন এই সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বদাতা।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au