কিছু দেশ সহায়তায় আগ্রহী নয়, যাদের বহু বছর সাহায্য করেছি: ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক রাখতে কিছু দেশ সহযোগিতা করতে আগ্রহী হলেও কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- হিমালয়াঞ্চলীয় দেশ নেপাল প্রথমবারের মতো একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়েছে। দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভূমিকা শ্রেষ্ঠা। সোমবার তাকে ফুলের মালা পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়, যা দেশটির এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী ভূমিকা শ্রেষ্ঠা মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি)-এর অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দলটি সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে সংসদে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ভূমিকা শ্রেষ্ঠা বলেন, এই অর্জনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেও একই সঙ্গে নিজের কাঁধে বড় দায়িত্ব অনুভব করছেন। তাঁর ভাষায়, দেশের সংবিধানে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন বিধান থাকলেও সেগুলো এখনো আইন ও নীতিমালায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। সংসদে গিয়ে তিনি এই সম্প্রদায়ের অধিকার ও সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চান।
গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জেরে সরকার পতনের পর। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পার্টি।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহ। নির্বাচনে দলটি ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১২৫টি জিতেছে। পাশাপাশি অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে আরও ৫৭টি আসন পেয়ে মোট ১৮২টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি মাত্র দুটি আসন দূরে রয়েছে।
এলজিবিটিকিউ অধিকার সংগঠন ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটি-এর সভাপতি উমিশা পান্ডে ভূমিকা শ্রেষ্ঠার নির্বাচিত হওয়াকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, এই সম্প্রদায়ের মানুষদের যন্ত্রণা, অভিজ্ঞতা এবং সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝেন তারাই। তাই সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এলজিবিটিকিউ অধিকার রক্ষায় নেপালের আইন তুলনামূলকভাবে অগ্রসর বলে মনে করা হয়। ২০০৭ সালে দেশটি লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। পরে ২০১৩ সালে নাগরিকত্ব নথিতে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ শ্রেণি চালু করা হয় এবং ২০১৫ সালে পাসপোর্টে ‘অন্যান্য’ নামে একটি নতুন লিঙ্গ বিভাগ যুক্ত করা হয়।
এর পাশাপাশি ২০২৩ সালে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট এক অন্তর্বর্তী আদেশে সমলিঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার দম্পতিদের বিয়ে নিবন্ধনের অনুমতি দেয়।
তবে ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে এই সম্প্রদায়ের কেউ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেননি। ওই বছর একজন প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তি অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নেপালে বর্তমানে ৯ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের যৌন সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভূমিকা শ্রেষ্ঠার সংসদে প্রবেশ দেশটির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au