আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অলিম্পিকের মশাল অনেক আগেই নিভে গেছে, ক্যালেন্ডারের পাতাও বদলে গেছে বহুবার। তবু অস্ট্রেলিয়া-র মাটিতে এখনও জীবন্ত হয়ে আছে সেই ইতিহাস। মেলবোর্ন-এর শান্ত জলাশয় থেকে সিডনি-র আধুনিক অলিম্পিক পার্ক—প্রতিটি স্থাপনা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় ক্রীড়ার গৌরবময় দিনগুলোর কথা। আধুনিক নগরায়নের ভিড়েও দেশটি যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করে রেখেছে অলিম্পিকের স্মৃতি ও ঐতিহ্য।
১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে বসেছিল অলিম্পিকের আসর। সেই গেমসের স্মৃতি এখনও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত। মেলবোর্ন থেকে কিছুটা দূরে বালারাত শহরের একটি জলাশয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল অলিম্পিকের রোইং প্রতিযোগিতা। জলাশয়ের পাশেই এখনো দেখা যায় অলিম্পিকের বিখ্যাত পাঁচটি বৃত্তের প্রতীক।
সেখানে খোদাই করে রাখা হয়েছে ১৯৫৬ সালের রোইং ইভেন্টে অংশ নেওয়া অ্যাথলেটদের নাম। যারা পদক জিতেছিলেন, তাদের নামও আলাদাভাবে স্মারকফলকে সংরক্ষিত রয়েছে। এতে দর্শনার্থীরা সহজেই সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
অলিম্পিকের পাশাপাশি প্যারা অলিম্পিয়ানদেরও সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও যারা দেশের হয়ে পদক জিতেছেন, তাদের সম্মান জানাতে বালারাতের জলাশয়ের পাশেই তৈরি করা হয়েছে একটি প্যারা অলিম্পিক সেন্টার। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পদকজয়ী প্যারা অ্যাথলেটদের ছবি ও তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
মেলবোর্নে অবস্থিত বিখ্যাত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ছিল ১৯৫৬ সালের অলিম্পিকের প্রধান ভেন্যু। এই ঐতিহাসিক মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা।
মেলবোর্নের ক্রীড়া জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে সেই অলিম্পিকের মশাল, মাসকট, লোগোসহ নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। পাশাপাশি মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব-এর লাইব্রেরিতেও রয়েছে ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক নিয়ে লেখা বই ও দলিল।
১৮৯৬ সালে আধুনিক অলিম্পিকের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি আসরেই অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ক্রীড়া সংস্কৃতি কতটা শক্তিশালী, তা এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণেই স্পষ্ট।
২০০০ সালে সিডনিতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকও ক্রীড়া ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। সেই আসরের অধিকাংশ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সিডনি অলিম্পিক পার্ক-এ। এই বিশাল চত্বরে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, হকি, সাঁতারসহ বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর ডিসিপ্লিনের আধুনিক ভেন্যু রয়েছে।
আজও অলিম্পিক পার্ককে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বমানের অবকাঠামো এবং শান্ত পরিবেশ খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম অলিম্পিক পার্কে খোদাই করে রাখা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাথলেট জুই ও সাঁতারু ডলি-র নামও রয়েছে। এমনকি ওই গেমসে কাজ করা বাংলাদেশি প্রবাসী স্বেচ্ছাসেবকদের নামও সংরক্ষিত হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরেও ব্যবহৃত হচ্ছে সিডনি অলিম্পিক পার্কের ভেন্যুগুলো। সাম্প্রতিক নারী এশিয়া কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এখানেই।
এই টুর্নামেন্টে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন-এর নিয়ম অনুযায়ী ভেন্যুটির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া হিসেবে। যদিও বাংলাদেশ নারী দল তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলেছে কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়াম-এ, যা টুর্নামেন্টে ‘ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া’ নামে পরিচিত।
সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়েছে, কেবল নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলাই নয়, ক্রীড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মেলবোর্নের পুরনো স্মৃতি থেকে সিডনির আধুনিক ক্রীড়া নগরী—সবখানেই যেন সেই ইতিহাস জীবন্ত হয়ে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au