নির্বাচন কমিশনের ‘ঘূর্ণিঝড়ে’ লন্ডভন্ড মমতার সাজানো প্রশাসন
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রীতিমত যুদ্ধে শামিল ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ঘোষিত তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি নন্দীগ্রাম এবং অন্যটি ভবানীপুর। ফলে আবারও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক দ্বৈরথের সম্ভাবনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন।
রোববার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। দলটির সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার তালিকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর্তমান বিধায়ক ও পরিচিত রাজনৈতিক মুখদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে নতুন প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনের পাশাপাশি ভবানীপুর আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভবানীপুর আসনটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে এই আসনে সম্ভাব্য লড়াইকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
বিজেপির ঘোষিত তালিকায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম রয়েছে। দলের সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আবারও খড়্গপুর সদর আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে রাসবিহারী কেন্দ্রে। হাওড়ার শিবপুর আসনে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষ। বরাহনগর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সজল ঘোষ এবং হাওড়া উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে উমেশ রাইকে।
বর্তমান বিধায়কদের মধ্যেও অনেকেই আবার মনোনয়ন পেয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণ আসনে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। বাঁকুড়ার শালতোড়া আসনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চন্দনা বাউড়ি। জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে প্রার্থী হয়েছেন শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং কোচবিহারের তুফানগঞ্জ আসনে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন মালতী রাভা রায়।
শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষকে। ভাটপাড়া আসনে প্রার্থী হয়েছেন পবন সিংহ, যিনি বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহর ছেলে।
এ ছাড়া বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে কোচবিহার উত্তরের সুকুমার রায়, কুমারগ্রামের মনোজ ওঁরাও, কালচিনির বিশাল লামা, ফালাকাটার দীপক বর্মণ এবং নাগরাকাটার পুনা ভেংরা আবারও দলের টিকিট পেয়েছেন। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন আনন্দময় বর্মণ, ফাঁসিদেওয়া থেকে দুর্গা মুর্মু, তপন থেকে বুধরাই টুডু, গঙ্গারামপুর থেকে সত্যেন্দ্রনাথ রায়, হবিবপুর থেকে জুয়েল মুর্মু, গাজোল থেকে চিন্ময় দেববর্মণ এবং দুর্গাপুর পশ্চিম থেকে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই।
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপির রাজ্য ওবিসি মোর্চার সভাপতি শুভেন্দু সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে বর্তমান বিধায়ক সৌমেন রায়র পরিবর্তে টিকিট পেয়েছেন উৎপল মহারাজ। বীরভূমের সিউড়ি কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
মুর্শিদাবাদ জেলায় ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি দুটি আসনে জয় পেয়েছিল। বহরমপুর আসনে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে সুব্রত মৈত্রকে এবং মুর্শিদাবাদ আসনে প্রার্থী হয়েছেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বেলডাঙা আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বেলডাঙা পুরসভার সাবেক পুরপ্রধান ভরত ঝাওয়ারকে, যিনি একসময় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নদিয়ার রানাঘাটের দুটি আসনে বর্তমান বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় এবং অসীম বিশ্বাস আবারও বিজেপির টিকিট পেয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক বিধায়ক দীপককুমার হালদার। হুগলির পুরশুড়া ও খানাকুল আসনে যথাক্রমে বিমান ঘোষ এবং সুশান্ত ঘোষ আবারও প্রার্থী হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অরুণ হালদারকে।
তবে প্রথম দফার ১৪৪ জনের প্রার্থী তালিকায় কয়েকজন পরিচিত নেতার নাম নেই। খড়্গপুর সদর আসনের বিদায়ী বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। একইভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও প্রথম দফার তালিকায় জায়গা পাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে বিজেপি একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে কৌশলগতভাবে প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থিতা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au