ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান হামলায় ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুধবার ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে একযোগে হামলা চালায়। কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক আহত রোগী পৌঁছানোয় চিকিৎসাসেবায় ভীষণ চাপ তৈরি হয়েছে।
এই হামলা গাজা যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ারই সর্বশেষ উদাহরণ, যেখানে ইসরায়েল ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়ছে।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক হামলায় দেশটির সরকারপ্রধানসহ কয়েকজন মন্ত্রী নিহত হয়েছিলেন। সেটিই ছিল প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাকে সরাসরি টার্গেট করে চালানো ইসরায়েলি হামলা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, “হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই এই অভিযানে নামতে হয়েছে।”
তাদের দাবি, হুথি যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে একাধিক ড্রোন ও সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই ইয়েমেনে হামলা চালানো হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়েমেনের হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েল ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এ ধরনের হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গাজা সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তত বেশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ফ্রন্টেও সহিংসতা বাড়তে থাকবে। ইয়েমেন হয়ে উঠতে পারে সেই আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দু।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই।