নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফল নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণের এক দিন পরও ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা, ভোট গণনায় বিলম্ব, শিক্ষক মৃত্যুসহ নানা ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার রাত দেড়টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা চলছিল। তবে কখন ফলাফল ঘোষণা করা হবে তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
প্রথমে হাতে ভোট গণনার কারণে গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে প্রীতিলতা হলের পোলিং কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এতে ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোট গণনা বন্ধ থাকে।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ মোট পাঁচটি প্যানেল প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।
শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, “ফলাফল প্রকাশ বানচালের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।”
অন্যদিকে ছাত্রদল দাবি করে, ওএমআর মেশিন এবং ব্যালট ছাপানোর কাজ জামায়াতের একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কমিশন ম্যানুয়ালি ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানান, ভোট গণনার জন্য পোলিং কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুত ফলাফল ঘোষণার চেষ্টা চলছে।
তবে নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন,
“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। নির্বাচন কমিশনের ভেতরে আমার মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। গুরুতর অনিয়ম ও ত্রুটি এ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির, বাগছাস ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বলেন,
“যদি আগে ফল ঘোষণা করা যেত, তবে আমার সহকর্মীর মৃত্যু হতো না। কমিশনের অব্যবস্থাপনার কারণেই তিনি মারা গেছেন।”
শিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন,
“প্রশাসনের একটি পক্ষ ঠুনকো অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করতে চাইছে।”
অন্যদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করেন,
“শিবিরের বক্তব্যই আসলে ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা জামায়াতের প্রভাবিত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার জন্য চাপ দিচ্ছে।”
অনানুষ্ঠানিক ফলাফল
২১টি হলের ভোট গণনার মধ্যে ৫টি হলে অনানুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া গেছে।
জাকসু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। একদিকে ভোট বর্জন ও পদত্যাগ, অন্যদিকে অব্যবস্থাপনা ও বিলম্ব—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অস্থির হয়ে উঠেছে। এখন শিক্ষার্থীদের চোখ অপেক্ষমাণ নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au