নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর- বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করল ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে।
তাদের বহুল আলোচিত ও আলোড়ন তোলা ‘মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্স’ বিশ্বভ্রমণ ট্যুর শেষ হলো লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে, গত শুক্রবার রাতের মহাসমারোহে।
একটার পর একটা রেকর্ড ভেঙে এবং নতুন রেকর্ড গড়ে ব্যান্ডটি যেন প্রমাণ করে দিল—তাদের জনপ্রিয়তার কোনো সীমা নেই।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়েম্বলির এই কনসার্ট ইতিহাসে প্রথম, যেখানে পুরো বিদ্যুৎ এসেছে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।
একটিও জেনারেটর ব্যবহার করা হয়নি।
কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল আগেই; কিন্তু লন্ডনের পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায়।
শোয়ের শুরুতেই ভক্তদের উদ্দেশে ভোকাল ক্রিস মার্টিন বলেন,
“আমি জানি, এতে (তারিখ পরিবর্তনে) অনেকেরই অসুবিধা হয়েছে। তবে আমরা এমন একটি শো করব, যা আগের যেকোনো কনসার্টের চেয়ে ১৫ গুণ ভালো হবে।”
২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ১৬টি কনসার্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছে কোল্ডপ্লে।
শুধু ওয়েম্বলিতেই ব্যান্ডটি টেনেছে ৮ লাখের বেশি দর্শক।
এভাবেই তারা ছাড়িয়ে গেছে কিংবদন্তি টেইলর সুইফট, টেক দ্যাট, ওয়েসিস ও মাইকেল জ্যাকসনের মতো তারকাদের।
কোল্ডপ্লের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে স্টেডিয়ামের ইতিহাসে এক নজির।
কোল্ডপ্লের কনসার্ট মানেই ভক্তদের জন্য আলাদা আবেগ।
আলো, রঙ, হাস্যরস আর স্বতঃস্ফূর্ততার মিশেলে মঞ্চে এক অনন্য আবহ তৈরি করেন তারা।
ওই রাতে ক্রিস মার্টিনও ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে—ব্যান্ডের সহশিল্পীদের নিয়ে করেছেন মজার নানা কাণ্ডকীর্তি।
তবে কনসার্টের শেষভাগে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
বারবার ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন—
“তোমাদের ভালোবাসাই আমাদের সব।”
ভক্তরাও প্রতিটি গানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন।
শেষ মুহূর্তে ভেন্যুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে, কারণ এই কনসার্টের পর দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছে কোল্ডপ্লে।
ওই রাতে শুধু কোল্ডপ্লে নয়, অতিথি শিল্পীরাও মাতিয়েছেন ওয়েম্বলি।
তাদের পরিবেশনাও দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়।
২০২২ সালে শুরু হওয়া মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্স ট্যুর ইতিমধ্যে করেছে চারবার বিশ্বভ্রমণ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর এক কনসার্টে ক্রিস মার্টিন ঘোষণা দেন—
ট্যুরে আরও ১৩৮টি শো যোগ হবে।
ফলে মোট শো দাঁড়াবে ৩৬০-এ।
দেড় বছরের বিরতি শেষে নতুন যাত্রা শুরু হবে আফ্রিকা থেকে।
বিলবোর্ড বক্সস্কোরের তথ্য অনুযায়ী,
প্রথম ২১১টি শো থেকে আয় হয়েছে ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাকি শোগুলো শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে কোল্ডপ্লের ট্যুরের মোট আয় দাঁড়াতে পারে ২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এভাবে তারা হয়তো ছাড়িয়ে যাবে টেইলর সুইফটের ‘দ্য ইরাস ট্যুর’-কেও।
একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনন্য উদ্যোগ, অন্যদিকে রেকর্ডসংখ্যক শো আর আয়—সব মিলিয়ে কোল্ডপ্লের মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্স ট্যুর নিঃসন্দেহে সংগীত ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ভক্তদের চোখে কোল্ডপ্লে কেবল একটি ব্যান্ড নয়, বরং বিশ্বসংগীতের এক আবেগ, এক ইতিহাস।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au