মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তাতে সৌদি আরবও সরাসরি যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসারেই রিয়াদ ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াবে।
জিও টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।” তিনি আরও জানান, এই চুক্তিকে ন্যাটোর ধারা ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। ওই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে সেটি সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আসিফ বলেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের চুক্তি আক্রমণাত্মক নয়, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তাঁর ভাষায়, “যদি সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হয়, আমরা একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো ধরনের আগ্রাসন শুরু করার জন্য এই চুক্তি ব্যবহার করা হবে না।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পাবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক টক শোতে আসিফ বলেছিলেন, “চুক্তি অনুযায়ী আমাদের সব ধরনের সক্ষমতা তাদেরও পাওয়ার সুযোগ থাকবে।” কিন্তু পরদিন রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আবার বলেন, “পরমাণু অস্ত্রের বিষয়টি বিবেচনাতেই নেই।”
পাকিস্তানের নীতি অনুযায়ী, তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি একটি সর্বাত্মক প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি, যা সব ধরনের সামরিক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে।”
দুই দেশের লাভক্ষতি: আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং একটি সম্ভাব্য ‘আরব জোট’ গঠনের সুযোগ।সৌদি আরবের জন্য: একটি শক্তিশালী ‘পারমাণবিক ঢাল’ নিশ্চিত করার সম্ভাবনা।
পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে এই নতুন মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।