মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলের কাছে ৬.৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব কংগ্রেসের কাছে পাঠিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রস্তাবিত বিশাল এ চুক্তিতে রয়েছে আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার এবং সেনা বহনকারী সাঁজোয়া যান।
গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কংগ্রেসে পাঠানো এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলি সেনারা তাদের অভিযান আরও জোরদার করেছে। হামাসের অবকাঠামোয় বোমা হামলার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে, তাদের পালানোর আর কোনো পথ খোলা নেই।
এ খবর প্রকাশিত হলো এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে একত্রিত হচ্ছেন। সেখানে গাজা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হওয়ার কথা।
প্রস্তাবিত চুক্তির মূল অংশ
- ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি: ৩০টি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার সরবরাহ।
- ১.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি: ইসরায়েলি সেনাদের জন্য ৩ হাজার ২৫০টি পদাতিক অ্যাসল্ট ভেহিকল।
- ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সরঞ্জাম: সাঁজোয়া যান ও বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্রাংশ।
হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ নিয়ে ভিন্নমত বাড়ছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গাজা পরিস্থিতি ও অস্ত্র বিক্রি নিয়ে গভীর বিভাজন দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সিনেটরদের একটি দল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। এর আগে সিনেটে অর্ধেকের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলের সামরিক শক্তি আরও বাড়বে, তবে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।