মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার ড্রোন অনুপ্রবেশের জবাবে পোল্যান্ডের আকাশে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা মিশনে যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স (আরএএফ)। শুক্রবার রাতে লিংকনশায়ারের কনিংসবি বিমানঘাঁটি থেকে দুটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান উড়ে পোল্যান্ডে টহল দেয়। সেগুলোকে সহায়তা দিতে একটি জ্বালানিবাহী আরএএফ ভয়েজারও মোতায়েন ছিল, যা আকাশেই যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করে। শনিবার ভোরে মিশন শেষ করে বিমানগুলো যুক্তরাজ্যে ফিরে আসে।
এই অভিযানকে ন্যাটোর ‘ইস্টার্ন সেনট্রি’ মিশনের অংশ হিসেবে পরিচালনা করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডের আকাশসীমায় এক দিনে রাশিয়ার ১৯টি ড্রোন অনুপ্রবেশের পর এই মিশনের ঘোষণা দেয় ন্যাটো। পোল্যান্ড সে দিন তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার কোনো ন্যাটো সদস্যদেশের সরাসরি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এ অভিযানে আরএএফের অংশগ্রহণকে ‘একটি পরিষ্কার বার্তা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ন্যাটোর আকাশসীমা রক্ষা করা হবে। আমি গর্বিত আমাদের অসাধারণ ব্রিটিশ পাইলট ও বিমানকর্মীদের নিয়ে, যারা রাশিয়ার বেপরোয়া আগ্রাসন থেকে আমাদের মিত্রদের রক্ষা করেছেন।”
হিলি রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে “বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং নজিরবিহীন” বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, “যখন আমাদের ওপর হুমকি আসে, আমরা একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাই।”
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এ ঘটনাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পোল্যান্ড সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার একেবারে কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।
রাশিয়ার ড্রোন অনুপ্রবেশ শুধু পোল্যান্ডেই নয়; সম্প্রতি রোমানিয়া ও এস্তোনিয়ার আকাশসীমায়ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। রোমানিয়া দাবি করেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের আকাশে একটি রুশ ড্রোন প্রবেশ করেছিল। আবার এস্তোনিয়া অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার তিনটি যুদ্ধবিমান অনুমতি ছাড়াই তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ১২ মিনিট অবস্থান করেছে।
তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা পোল্যান্ড বা অন্য কোনো ন্যাটো সদস্যদেশের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা করেনি।
সুত্রঃ বিবিসি