শুভেচ্ছার বার্তা নিয়ে ভারত গেল বাংলাদেশের ১,১০০ কেজি আম
মেলবোর্ন,১ জুলাই- বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১ হাজার ১০০ কেজি আম…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনারা গাজা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে। একইসাথে পশ্চিম তীরে নতুন নতুন বসতি স্থাপনের জন্য বুলডোজার দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থন অনেকের কাছেই এক প্রকার ‘রসিকতা’ মনে হয়েছে।
ইসরায়েল যেন দ্রুত এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে মানচিত্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মতো জায়গাই না থাকে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ সম্প্রতি বলেছেন, গাজা উপত্যকাকে “রিয়েল এস্টেটের স্বর্গ” বানানো যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, “যদি একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, আমরাও একতরফা জবাব দেব। কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।”
তাহলে কি অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, পর্তুগাল ও নিউজিল্যান্ডসহ যে দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের পদক্ষেপ সত্যিই এতটাই অর্থহীন, যতটা সমালোচকরা বলছেন?
মাত্র কয়েক মাস আগেও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে—এমনটা অকল্পনীয় মনে হয়েছিল। অন্য কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক ধরনের ‘আমেরিকাবিহীন বিশ্ব’। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সবধরনের কূটনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করছেন, যাতে গাজার যুদ্ধ বন্ধ করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশই আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগ মূলত শেষ চেষ্টা—অন্তত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণাটিকে জীবিত রাখার জন্য। এর পেছনে যুক্তি হলো, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না, ভবিষ্যতে হয়তো নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার পুরনো অবস্থান ছিল—সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার পরেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এখন তাদের অবস্থান পাল্টেছে। তারা মনে করছে, স্বীকৃতি দেওয়াই হবে সমাধানের প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন বাড়াতে চাইছে, বিশেষ করে জুলাইয়ে গৃহীত নিউইয়র্ক ঘোষণার প্রতি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণাটি ১৪২ ভোটে গৃহীত হয়, যেখানে মাত্র ১০টি দেশ বিরোধিতা করে এবং ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে—টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সব পক্ষকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেন। তারা বলেন, এটি ‘‘গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির মাধ্যমে দুই রাষ্ট্র সমাধানে নতুন গতি সৃষ্টির জন্য একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ।”
ঘোষণায় আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (PA) অবশ্যই ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা সংস্কারসহ নানা সংস্কারের অঙ্গীকার করতে হবে। এ বিষয়ে তারা সরাসরি অস্ট্রেলিয়াকে আশ্বাস দিয়েছে।
হামাসের কোনো ভূমিকা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে থাকবে না বলেও ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও দূতাবাস খোলার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় গাজা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—এই উদ্যোগ সফল করতে আরব লীগভুক্ত দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও অনেক আরব দেশ গাজায় হত্যাযজ্ঞে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, এখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পও জলবায়ু নীতির মতো বিষয়ে লড়াই করতে আগ্রহী নন। তবে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব মীমাংসায় সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত হতে তিনি আগ্রহী।
নিউইয়র্ক ঘোষণার স্বাক্ষরকারীরা মনে করছে, এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট বার্তা—যে আগের মতো সহনশীলতার সময় শেষ হয়ে এসেছে। নেতানিয়াহুকে যে আস্থা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে হবে।
গাজার চলমান হত্যাযজ্ঞকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বয়কট পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এখন বাকি বিশ্ব আশা করছে—ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই পদক্ষেপ অন্যান্য চাপের মতোই ইসরায়েলের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং নিউইয়র্কে সমবেত বিশ্ববাসী দেখবে—ইসরায়েলকে এবার সত্যিই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার বর্তমান আচরণ আর সহ্য করা হবে না।
লরা টিংগল হলেন এবিসির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au