মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- ওয়াশিংটনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জো কির্কের স্মরণসভা উপলক্ষে আলবানিজের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ধারণা করা হচ্ছিল যে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একটি আনুষ্ঠানিক বা অন্তত অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক মহল আশা করেছিল, স্মরণসভা শেষে ট্রাম্প কিছু সময় বরাদ্দ করে আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে ট্রাম্প তার সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনেননি এবং অনুষ্ঠানের পর সরাসরি স্থান ত্যাগ করেন। এতে করে আলবানিজের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি কূটনৈতিক শীতলতাই নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও প্রতিফলন।
অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (AUKUS চুক্তি) এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা কৌশলের ক্ষেত্রে। তবে ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক উপেক্ষা ক্যানবেরার কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা চাপে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলবানিজের জন্য এটি বিব্রতকর, কারণ বৈঠকটি হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য পরিস্থিতিকে বড় করে দেখতে নারাজ। তারা বলছেন, “বৈঠক না হলেও দুই দেশের সম্পর্ক অটুট রয়েছে, বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” তবে বিরোধী দল এবং সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের কৌশল কতটা কার্যকর হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি ভবিষ্যতে আবারও মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন, তবে অস্ট্রেলিয়াকে নতুন করে কৌশল সাজাতে হবে। বারবার উপেক্ষা সম্পর্কের উষ্ণতায় ফাটল ধরাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।