ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে অস্পষ্টতা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো অবস্থান পাওয়া…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একটি সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কার ‘ঝুমকা’। রাজনৈতিক বার্তা দিতে দেওয়া ওই পোস্টে তাঁর কানে ঝোলা কারুকার্যখচিত ঝুমকা নজর কেড়েছে নেটিজেনদের, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।
জর্জিয়া মেলোনি তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, “প্রপাগান্ডা ছড়ানো লোকেদের থেকে আমি সততার পাঠ নিতে আসিনি। আমাদের কোনো অদৃশ্য সুতো বা প্রভু নেই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ইতালির স্বার্থ।” তবে পোস্টের এই দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তার চেয়েও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তাঁর কানের দুল।
বিশেষ করে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আগ্রহ ও হাস্যরস। কেউ বলছেন, “এই ঝুমকা কোথা থেকে?” আবার কেউ বলিউডের জনপ্রিয় গানের সুরে মজা করে লিখছেন “হোয়াট ঝুমকা?” অনেকেই বিষয়টিকে বিশ্ব সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন হিসেবেও দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনির রাজনৈতিক গাম্ভীর্য আর ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কারের এই বৈপরীত্যই পোস্টটিকে ভাইরাল হওয়ার মূল কারণ। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনার পাশাপাশি ফ্যাশন ও সংস্কৃতির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পায়।
ঝুমকার ইতিহাস বহু প্রাচীন। ধারণা করা হয়, প্রায় দুই হাজার বছর আগে দক্ষিণ ভারতের চোল সাম্রাজ্যের সময় এর ব্যবহার শুরু হয়। প্রথমদিকে মন্দিরের দেব-দেবীর অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে এটি নৃত্যশিল্পীদের সাজে এবং সাধারণ নারীদের অলঙ্কারে জায়গা করে নেয়।
মুঘল আমলে পারস্য শিল্পরীতির প্রভাবে ঝুমকার নকশায় আসে বৈচিত্র্য। মীনাকারি, কুন্দন ও পোলকির কাজ যুক্ত হয়ে এটি আরও রাজকীয় রূপ পায়। ঘণ্টার মতো আকৃতির এই দুলকে সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।
বর্তমানে ঝুমকা শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই নয়, বিশ্ব ফ্যাশনের অঙ্গনেও জনপ্রিয় এক অলঙ্কার। জর্জিয়া মেলোনির মতো একজন বিশ্বনেতার মাধ্যমে আবারও এটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে আসায় অনেকেই মনে করছেন, সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই।
এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ মিলছে, রাজনীতির কড়াকড়ি বার্তার মাঝেও কখনো কখনো একটি ছোট্ট অলঙ্কারই বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au