মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে চার নভোচারী পাঠানো হবে। ‘আর্টেমিস–২’ নামে পরিচিত এ অভিযানের সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের সময়সীমা ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। এর আগে নাসা বলেছিল, অভিযানটি এপ্রিলের শেষ নাগাদ পরিচালিত হবে।
নাসার কার্যনির্বাহী উপসহকারী প্রশাসক লেকিশা হকিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে। তবে নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নভোচারীদের চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করানো এবং ধীরে ধীরে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ১৯৭২ সালের পর এ ধরনের মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযান আর হয়নি।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে ‘আর্টেমিস–১’ অভিযান পরিচালিত হয়। এটি ২৫ দিন স্থায়ী ছিল। ওই অভিযানে একটি মহাকাশযান চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে। যদিও সে সময় মহাকাশযানের হিটশিল্ডে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল, পরে তা সমাধান করা হয়।
আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেবেন চার নভোচারী—
- রিড ওয়াইজম্যান (নাসা)
- ভিক্টর গ্লোভার (নাসা)
- ক্রিস্টিনা কচ (নাসা)
- জেরেমি হ্যানসেন (কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা)
তাঁরা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবে ১০ দিনের এ অভিযানে পৃথিবীর নিকটবর্তী কক্ষপথে চাঁদ প্রদক্ষিণ করবেন এবং তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
অভিযানে ব্যবহৃত প্রধান উৎক্ষেপণ যান স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন কেবল নভোচারীদের বহনের জন্য নির্মিত ওরিয়ন মহাকাশযানকে এসএলএসের সঙ্গে যুক্ত করা ও এর কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করার কাজ বাকি আছে।
এই অভিযান সফল হলে প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবারও মানুষের চাঁদমুখী যাত্রা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সুত্রঃ বিবিসি