২০২০ সালের পর ইউটিউবের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। ছবি: ইউটিউব
মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- কোভিড-১৯ মহামারি ও নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ২০২০ সালে নিষিদ্ধ হওয়া চ্যানেলগুলোকে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে ইউটিউব। গুগল জানিয়েছে, তারা পূর্বের কনটেন্ট মডারেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অ্যালফাবেট (গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান) মার্কিন কংগ্রেসের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটিতে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, বাইডেন প্রশাসন কোম্পানিকে এমন কনটেন্ট মুছে ফেলার জন্য চাপ দিয়েছিল, যা আসলে ইউটিউবের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। আইনজীবীদের বক্তব্যে বলা হয়, সরকারের কনটেন্ট মডারেশন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা “অগ্রহণযোগ্য ও ভুল”।
২০২০ সালে ইউটিউব চালু করেছিল ‘মেডিকেল মিসইনফরমেশন পলিসি’, যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রমূলক ভিডিও নিষিদ্ধ করা হয়। একইভাবে, ২০২১ সালে ক্যাপিটল হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব চ্যানেলসহ বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ স্টিভেন ক্রাউডারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভিডিও ও মনিটাইজেশনও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এখন ইউটিউব জানাচ্ছে, তাদের নীতিমালা পরিবর্তিত হয়েছে। যেসব নিয়ম ভাঙার কারণে চ্যানেলগুলো নিষিদ্ধ হয়েছিল, সেগুলো আর কার্যকর নেই। ফলে এসব চ্যানেল পুনর্বহাল করা হবে।
এ ছাড়া গুগল নিশ্চিত করেছে, ইউটিউব আর তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকার ব্যবহার করবে না। রক্ষণশীলদের অভিযোগ ছিল, ফ্যাক্টচেকাররা তাদের কনটেন্টকে অন্যায়ভাবে অবমূল্যায়ন করছিল।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউটিউব জানায়, এটি একটি “সীমিত পাইলট প্রকল্প”। কেবল কিছু নির্বাচিত নির্মাতা ও পূর্বে নিষিদ্ধ হওয়া চ্যানেলকে ফিরতে দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রিপাবলিকান প্রতিনিধি ও হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান বলেছেন, এটি “সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে আরেকটি জয়”। তার দাবি, ইউটিউব এখন আমেরিকান জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছে এবং বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সারদের ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, গুগল এখনো একাধিক অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার মুখোমুখি। সম্প্রতি এক মামলায় আদালত গুগলকে সার্চ ইঞ্জিনে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখলেও ক্রোম ব্রাউজার বিক্রিতে ছাড় দিয়েছে। তবে আরেক মামলায় ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ভার্জ