মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- বাণিজ্য চুক্তির কয়েক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।
বৈঠকটি বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ ও দ্য ডনও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, অর্থনীতি ও বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এগিয়ে নিতে মনোযোগী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আর এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র–পাকিস্তান সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন চীনের প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছিল। তবে ট্রাম্পের শাসনামলে ভিসা জটিলতা, উচ্চ শুল্ক আরোপ ও ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
গত ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করে। চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তবে ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দিল্লি চীনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো একান্ত বৈঠকের আমন্ত্রণ পান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেটিই ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের একান্ত বৈঠক, যেখানে কোনো বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প সম্প্রতি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও। বৈঠকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র শান্তির প্রস্তাব ওই নেতাদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।