মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- গত কয়েক দিনে ডেনমার্কের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানবন্দর অজ্ঞাত ড্রোনের কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাগুলো একযোগে ঘটার ধরণ ও পেশাদারভাবে পরিচালিত হওয়ার আলামত দেখে দেশীয় কর্তৃপক্ষ এগুলোকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা পরিকল্পিত অভিযান হিসেবে দেখছে — যাতে জনসাধারণের ভয়, বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরাঞ্চলের আলবর্গ (Aalborg) বিমানবন্দরের আকাশে সবুজ আলো দেখা যায়; কয়েক ঘণ্টার জন্য ওই বিমানবন্দরটিসহ বিলুন্ড (Billund) ও অন্য কয়েকটি ছোট বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। আলবর্গ—যে স্থলগুলোর ওপর সামরিক স্থাপনা আছে—সামান্যভাবে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এই সময়ে কিছু ফ্লাইট অন্য পথে ঘুরে দেওয়া হয়।
এর আগে একই সপ্তাহে কোপেনহেগেন বিমানবন্দরেও ড্রোন দেখা যাওয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা গিয়েছিল; ওই ঘটনার ধরণ—ড্রোনগুলো চারপাশে ঘুরে আলো অনা-বন্ধ করার মতো কৌশল দেখানো—কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করেছে।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পলসেন এসবঘটনাকে “হাইব্রিড অ্যাটাক” বলেছেন এবং জানান যে ড্রোনগুলো ‘পেশাদার গোষ্ঠীর’ মতো কাজ করেছে — অর্থাৎ সেগুলোতে পরিকল্পনা, সমন্বয় ও সক্ষমতা বিরাজমান ছিল। বিচার বিভাগীয় ও সামরিক তদন্ত চলছে; নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জন্য সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটো পর্যবেক্ষক পূর্বে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহ উত্থাপন করেছে, কারণ সাম্প্রতিককালে ইউরোপের উপকূলে ড্রোন ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার অভ্রবেশন দেখা গেছে। তবে ডেনমার্ক এখনও রাশিয়ার সরাসরি জড়িত থাকার ‘নিরপক্ষ প্রমাণ’ পায়নি — এবং রুশ দূতাবাস এসব অভিযোগকে মিথ্যা কিংবা “সাজানো উসকানি” বলে উত্থাপিত করেছে। কর্তৃপক্ষ ও কূটনীতিক উভয়পক্ষই ঘটনাগুলো স্বচ্ছভাবে জিজ্ঞাসা করছে।
এই ধরনের ড্রোন ওভারফ্লোগুলো বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সেবাকে বিঘ্নিত করে এবং অবতরণ/উড্ডয়ন সময় প্লেন–ড্রোন সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায় — ফলে নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে ফ্লাইট স্থগিত বা পুনঃনির্দেশ দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনাগুলো শুধুই একক ‘নায়াজ্ঞানহীন কাণ্ড’ নয়; বরং ইলেকট্রনিক-চালিত বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন প্রয়োগ করে অবকাঠামোয় চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব — যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, প্ররোচনা বা কৌশলগত পরীক্ষাও হতে পারে।
ডেনিশ সরকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ঘটনা তদন্ত করছে; সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় এই বিষয়টি ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের নেতৃত্বে এক ধরনের “ড্রোন প্রাচীর” বা দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব উঠেছে — যার উদ্দেশ্য হলো অজ্ঞাত ড্রোন দ্রুত শনাক্ত করে তাদের নিরস্ত্রীকরণ করা, যাতে বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করা যায়। কিভাবে তা বাস্তবায়ন হবে—প্রযুক্তি, কৌশল ও আইনি কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা চলছে।
ডেনিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, জনসাধারণের নিরাপত্তার কারণে ও আশেপাশে বসবাসীদের ঝুঁকি বিবেচনায় ওই ড্রোনগুলো গুলি করে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি—বরং তদন্ত-ও শনাক্তকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে “ড্রোনগুলোকে নামিয়ে আনা হবে।”
প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন কোপেনহেগেনের ঘটনার প্রসঙ্গে এটি “দেশের অবকাঠামোর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর আঘাত” বলে অভিহিত করেছেন এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে তৎপরভাবে পরামর্শ করছেন। ইস্যুটিকে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি