মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সব সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে কবে এবং কীভাবে এই শুল্ক কার্যকর করা হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে এটি হবে প্রথমবারের মতো কোনো সেবাখাতে নয়, বরং সাংস্কৃতিক পণ্যে সরাসরি শুল্ক আরোপের ঘটনা।
ট্রাম্প গত মে মাসেই প্রথম এমন প্রস্তাব দেন, যুক্তি দেখান যে অন্যান্য দেশ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে কর ছাড় ও প্রণোদনা দিচ্ছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযোজনা কমে গেছে। সোমবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, “এই অঙ্গরাজ্য বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য মার্কিন শহর ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র নির্মাণে কর ছাড়সহ নানা প্রণোদনা চালু করেছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণায় হলিউড শিল্প কিছুটা বিস্মিত হয়।
একজন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সিএনএন-কে বলেন, “প্রথম শোনার পর এটা হতবাক করার মতো। এটা কার্যকর হলে প্রযোজনা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বাস্তবে ট্রাম্পের এরকম কোনো এখতিয়ার নেই, এবং বিষয়টি বাস্তবায়ন করাও অত্যন্ত জটিল।”
মার্কিন অভিনেতা-পরিচালকরা সাধারণত দেশেই কাজ করতে পছন্দ করেন, তবে বিদেশে প্রযোজনা সস্তা হয়। ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সির ভাইস চেয়ারম্যান জে সুরেস বলেন, “বিদেশে সিনেমা বানানো অনেক সস্তা। কারণ শ্রম ব্যয় কম, কর রেয়াত বেশি, আর প্রযোজনার খরচ অনেক কম।”
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সোমবার সকালে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দর ১ শতাংশ কমে যায়, যদিও সিনেমা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান—এএমসি ও ওয়াল্ট ডিজনি—উচ্চমূল্যে লেনদেন শুরু করে।
মার্কিন সিনেমা শিল্পের বর্তমান অবস্থা
মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা হলে দর্শক কমে গেছে। মানুষ এখন বেশি সময় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কাটায়। ২০১৮ সালে মার্কিন বক্স অফিসে আয় হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০২০ সালে তা নেমে আসে ২ বিলিয়ন ডলারে। যদিও এখন কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তবে ২০১৯ সালের তুলনায় সিনেমা মুক্তির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এই বছর পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি (যারা সম্প্রতি সিএনএন থেকে পৃথক হয়েছে) বিশ্বব্যাপী ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা এই পর্যায়ে পৌঁছানো প্রথম প্রযোজনা সংস্থা।
আরও শুল্কের প্রস্তুতি
সিনেমার বাইরে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কিছু খাতে উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। বুধবার থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসবে বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধে (কিছু ব্যতিক্রম বাদে), ভারী ট্রাকে ২৫ শতাংশ, রান্নাঘরের ক্যাবিনেট ও ভ্যানিটিতে ৫০ শতাংশ, আর সোফা ও ফার্নিচারে ৩০ শতাংশ।
এছাড়া ট্রাম্প সোমবারের এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব ধরনের ফার্নিচারের ওপরও তিনি “বড় ধরনের শুল্ক” আরোপ করতে চান।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন