অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান
চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এক শুদ্ধি অভিযান। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চাকরিবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ব্যাংকটি ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৯৭১ জনকে অন সার্ভিস ডিউটি (ওএসডি) করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা বেতন ও ভাতা ঠিকই পাবেন, কিন্তু কোনো দায়িত্ব বা পদে থাকবেন না। ফলে ব্যাংকের ভেতরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ গঠন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। তখন কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সিভি জমা দিয়ে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ পান। এসব নিয়োগের বেশিরভাগই হয় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে। বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মীই ওই অঞ্চলের মানুষ বলে জানা গেছে।
ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। তাই ব্যাংকের স্বার্থে এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার ইসলামী ব্যাংকের এই বিশেষ যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫ হাজার ৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উপস্থিত হন মাত্র ৪১৪ জন। তারা নিয়মিত কাজে যুক্ত আছেন। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ৪ হাজার ৯৭১ জনকে পরদিন থেকেই ওএসডি করা হয়। আর যারা পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন, তাদের মধ্যে ২০০ জনকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এক মাস আগে তাদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক সেই আদেশ অমান্য করে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে, যা তাদের মতে বেআইনি। তারা বলেছেন, ব্যাংকের এই পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী, তাই তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কর্মীদের ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা দেশে এই প্রথম। সাধারণত ব্যাংকগুলো পদোন্নতির জন্য ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই করে থাকে, কিন্তু সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মী মূল্যায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিয়োগ ও যোগ্যতা যাচাই তাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, তবে তা অবশ্যই আইন ও নীতিমালার মধ্যে থেকেই করতে হবে।
জানা গেছে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিভিন্ন উপায়ে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়। এতে ব্যাংকটি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়ে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে এস আলমের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে এবং নতুন পর্ষদ নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই অযোগ্য নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের বাছাই, ব্যাংক পুনর্গঠন ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট পুরোপুরি নির্ভর করছে আদালত, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। যদি যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে। অন্যদিকে আদালত যদি কর্মীদের দাবিকে গুরুত্ব দেয়, ব্যাংককে নতুন সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইসলামী ব্যাংকের এ প্রক্রিয়া শুধু অভ্যন্তরীণ সংস্কার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য সরাসরি পরীক্ষা নিয়ে চাকরি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুত্রঃ দৈনিক সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au