মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নেওয়ার পর অবশেষে সরকার ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
গত সপ্তাহ থেকে চলা এই বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘের হিসাবে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক। রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন শহরে তরুণ–তরুণীরা রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁদের মূল বার্তা ছিল—“আমরা বাঁচতে চাই, শুধু টিকে থাকতে নয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এ আন্দোলন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটিকে গত কয়েক বছরের মধ্যে মাদাগাস্কারের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা কেনিয়া, নেপাল ও মরক্কোর তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
রাজধানীতে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে এবং ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ জারি রেখেছে। এ সময় শহরে সুপারমার্কেট, ব্যাংক ও দোকানপাটে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রাজনীতিবিদদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা জনরোষের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যাকে কেন্দ্র করে জনগণের রাগ–ক্ষোভ, কষ্ট আর দুর্ভোগের কথা আমি বুঝতে পারছি। তাঁদের আহ্বান শুনেছি, ভোগান্তি অনুভব করেছি।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
মাদাগাস্কার দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছিল। বিদ্যুৎ–পানি সংকট ও জীবনযাত্রার মানের অবনতি বর্তমান আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ছাড়াও সাধারণ মানুষ রয়েছেন। তবে মাদাগাস্কারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, জাতিসংঘের দেওয়া এ সংখ্যা “গুজব বা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।”
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঢেউ শুধু মাদাগাস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়। নেপালে একই ধরনের আন্দোলনের ফলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার সেই অনুপ্রেরণায় মাদাগাস্কারের তরুণদের নেতৃত্বেই সৃষ্টি হলো নতুন রাজনৈতিক সংকট।
সুত্রঃআল–জাজিরা