মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- আফগানিস্তানে হঠাৎ করে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস ‘সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ বলে অভিহিত করেছে। এর ফলে শিক্ষা, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান নারীদের শিক্ষা ও চাকরিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী লেখকদের বই সরিয়ে ফেলা, স্বাস্থ্যসেবা কোর্স বাতিল—এসবের মধ্যেই অনেক নারী শেষ আশ্রয় হিসেবে অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগও হারালেন তারা।
তাখার প্রদেশের শিক্ষার্থী শাকিবা বলেন, “আমরা পড়তে চাই, মানুষের উপকারে আসতে চাই। কিন্তু এখন ঘরে বসে আর কিছুই করার নেই।” কাবুলের আরেক শিক্ষার্থী জানান, তাঁর স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে বাবাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা, কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া এখন সবকিছু অন্ধকার।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরাও। অনলাইন ইংরেজি প্রশিক্ষক জাবি জানান, তাঁর ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু পরীক্ষা চলাকালেই সংযোগ কেটে যায়। মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী আনাস বলেন, “আমাদের কাজ ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। ই-মেইল পাঠানো পর্যন্ত সম্ভব নয়।”
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে কেবল মোবাইল নেটওয়ার্কই নয়, স্যাটেলাইট টিভি ও কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তারা কাবুল কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে। বিদেশে থাকা আফগান প্রবাসীরাও আতঙ্কে আছেন। ভারতের মোহাম্মদ হাদি বলেন, “পরিবার নিরাপদে আছে কিনা, তা জানার কোনো উপায় নেই।”
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবানের শাসনে নারীরা ভয়ভীতি ও বৈষম্যের মুখে রয়েছেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শিক্ষা বা চাকরিই নয়, বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে আফগানদের শেষ যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সাংবাদিক হামিদ হায়দারি মন্তব্য করেন, “বিচ্ছিন্নতায় আফগানিস্তান এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।”
ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে ব্যাংকিং, ই-কমার্স ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়বে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও গভীর সংকটে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্র; বিবিসি