মুক্তি পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে তার দেড় মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে…
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে শাটডাউন। শেষ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে অর্থবিল নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, ১৯৮০ সালের পর অন্তত ১৫ বার মার্কিন সরকার আংশিকভাবে বন্ধ হয়েছে, তবে এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হতে পারে—কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এই সুযোগে তিনি সরকারি খাতের আকার ছোট করার কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন কিছু করতে পারি যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য একদমই ভালো হবে না। তাদের প্রিয় কিছু কর্মসূচি বাতিল করা বা নির্দিষ্ট কিছু পদ বাদ দেওয়া হতে পারে। শাটডাউন সরকারের জন্য খারাপ হলেও এতে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে।”
শাটডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ, ছোট ব্যবসার ঋণ অনুমোদন, এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা বন্ধ থাকবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগ চালু থাকবে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপাতত বেতন পাবেন না। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালু থাকলেও ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, এবার তিনি “অপ্রয়োজনীয় সরকারি পদ স্থায়ীভাবে বাতিল” করতে পারেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন সাবেক হোয়াইট হাউসের আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার। তিনি বলেন, “এই ধরনের হুমকি আসলে রাজনৈতিক চাপের কৌশল। প্রেসিডেন্ট কিছু পদে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে সিভিল সার্ভিস আইনের আওতায় থাকা কর্মীদের চাকরি ছাঁটাই তাঁর পক্ষে আইনগতভাবে সম্ভব নয়।”
মূলত বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক টানাপোড়েনই শাটডাউনের মূল কারণ। রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বিল সরকারকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যয় মেটানোর সুযোগ দিত, কিন্তু সেটি সিনেটে পাস হয়নি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত বিলও রিপাবলিকানদের সমর্থন না পাওয়ায় ব্যর্থ হয়।
এ নিয়ে দুই দল একে অপরকে দায়ী করছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, “রিপাবলিকানরা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় কাটছাঁট করতে গিয়ে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। জনগণ এর মূল্য দেবে।” অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতা জন থুন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “বুধবারের ভোটে অন্তত একটি অন্তর্বর্তী সমাধান আসতে পারে।”
শাটডাউন যতদিন চলবে, ততদিন লাখো সরকারি কর্মী বেতনহীনভাবে কাজ করবেন অথবা সাময়িক ছুটিতে থাকতে বাধ্য হবেন। সাধারণত শাটডাউন শেষে এসব কর্মীদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়, কিন্তু এবার ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে সে নিশ্চয়তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দ্বিদলীয় নীতি কেন্দ্র (Bipartisan Policy Center) জানিয়েছে, ১৯৮০ সালের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৫তম শাটডাউন। এর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা হয়েছিল ২০১৮ সালে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, যা টানা ৩৪ দিন স্থায়ী ছিল।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এবার শাটডাউন দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নতুন ধাক্কা খাবে। বিশেষ করে সরকারি ক্রয়ে বিলম্ব, ঋণ অনুমোদন স্থগিত এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরির কারণে ব্যবসায়িক আস্থা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সরকারের অকার্যকরতা দূর করতে এবং “অতিরিক্ত বুরোক্রেসি কমাতে” সহায়ক হবে। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, এই শাটডাউন সাধারণ নাগরিকদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au