ফের পাকিস্তানে যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। তেহরানে সাময়িক ফিরে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আবারও পাকিস্তান…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে তার দেড় মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়েই কারামুক্তি পেয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনায় শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের এই আদেশের পরদিন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কারামুক্ত করা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির দিন সকাল থেকেই তার স্বজন ও সহকর্মীরা কারা ফটকের সামনে ভিড় করেন। তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শিল্পী বেগমকে শিশু সন্তানসহ কারাগার থেকে বের হতে দেখেন। এ সময় উপস্থিতদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, শিল্পী বেগম তাদের এলাকার পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তারা অন্যায় মনে করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর আদালত মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
কারামুক্তির পর শিল্পী বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তাকে পুলিশ নিজ উদ্যোগে গ্রেপ্তার করেনি, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি নেই। আদালতের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ায় তিনি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি এলাকার নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাতে পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। সেই রাতেই তিনি তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
শিশুসন্তানসহ কারাবাসের বিষয়টি সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে একজন মায়ের সঙ্গে এত ছোট শিশুর কারাগারে থাকার ঘটনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন তোলে। পরবর্তীতে আদালতের জামিন আদেশে মা ও সন্তান একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ায় স্বজনরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি প্রক্রিয়া এবং মানবিক বিবেচনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au