জনপ্রিয়তা কমছে আলবানিজের, ভোটের লড়াইয়ে উঠে আসছে ওয়ান নেশন
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্কাই নিউজ পালস এবং ইউগভের যৌথভাবে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ভারত কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদের সামনে মাথা নত করবে না এবং এ ধরনের হামলার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের পরিকল্পনা কখনো সফল হতে দেওয়া হবে না।
গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ছিলেন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় ঘোড়াচালক। এই ঘটনার পর ভারতজুড়ে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
হামলার বর্ষপূর্তিতে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ওই হামলায় যাদের প্রাণ গেছে, দেশ তাদের কখনো ভুলবে না।
মোদি আরও বলেন, ভারত একটি জাতি হিসেবে শোক ও সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের অবস্থান কঠোর এবং অটল থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভারতের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না এবং সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না।
এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে পাকিস্তানের প্রতি পরোক্ষ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
এদিকে পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ভারতের সেনাবাহিনীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক পোস্টে বলা হয়, কিছু সীমা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয় এবং যারা মানবতার সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হয়। পোস্টে আরও বলা হয়, ভারত এই হামলা ভুলবে না এবং দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ওই হামলার পর ভারত “সিঁদুর অভিযান” নামে একটি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, যেখানে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি, ওই অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোতেও চাপ সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয় এবং ভবিষ্যতেও কঠোর প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au