হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনার শর্তে জীবিত ও মৃত—সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটি একই সঙ্গে জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে হস্তান্তরে সম্মত।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য হলেও কয়েকটি বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে। তবে বিবৃতিতে তারা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কিছু বলেনি—যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি এবং অতীতে হামাস স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “গাজা উপত্যকার ওপর যুদ্ধ বন্ধ, বন্দিবিনিময় ও মানবিক সহায়তার তাৎক্ষণিক প্রবেশ নিশ্চিত করতে আরব, ইসলামিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আমরা প্রশংসা করি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবে উল্লিখিত বিনিময় সূত্র অনুযায়ী সব দখলদার বন্দিকে—জীবিত বা মৃতদেহ—মুক্তি দিতে সম্মত। এ জন্য প্রয়োজনীয় মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” হামাস আরও জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা অবিলম্বে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যাতে প্রস্তাবের বিস্তারিত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যায়।

গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন বাহিনী হামাস। ছবিঃ রয়টার্স
হামাস এই প্রতিক্রিয়া জানায় ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনার পর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটিকে স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করে বলেননি, হামাসের দাবি অনুযায়ী এই প্রস্তাব আলোচনাযোগ্য কি না।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি, বন্দিবিনিময়, আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দলীয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় ভবিষ্যতে গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েল এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো বন্দিবিনিময় বা প্রশাসনিক হস্তান্তর সম্ভব নয়।