মেলবোর্ন,৫ অক্টোবর- গাজা উপত্যকায় কোনো ধরনের বিদেশি শাসন বা আন্তর্জাতিক প্রশাসন গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। সংগঠনটি বলেছে, গাজার জনগণই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে—বাইরের কোনো শক্তি নয়।
শনিবার হামাসের মুখপাত্র জিহাদ তাহা এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজায় বিদেশি বা আন্তর্জাতিক প্রশাসনের ধারণা ফিলিস্তিনি জাতির সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। আমাদের জনগণ কারও শাসন মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “গাজা উপত্যকা ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা—সবকিছু পরিচালনার অধিকার ফিলিস্তিনি জনগণেরই থাকবে।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশ গাজায় যুদ্ধোত্তর প্রশাসন গঠনের জন্য “আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান” বা “আরব যৌথ মিশন” গঠনের প্রস্তাব দেয়। এরই প্রেক্ষিতে হামাসের এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।
হামাসের নেতা তাহা বলেন, “যে কোনো বিদেশি বাহিনী বা তত্ত্বাবধান গাজায় নতুন দখলদারিত্বের রূপ নেবে। আমরা এমন কোনো পরিকল্পনা মেনে নেব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই অবস্থান যুদ্ধোত্তর গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পশ্চিমা ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনে যদি কোনো যৌথ প্রশাসন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে হামাসের বিরোধিতা সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের বিষয়ে সমঝোতার খসড়া প্রস্তুত হচ্ছে। তবে হামাসের এই ঘোষণা সেই প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা।