ময়মনসিংহে মন্দিরে তালা ভেঙে কালী-লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন)…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে ১৮ দিন আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সন্তান। দীর্ঘদিনের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মা দায়ানা পাতিনো বলেছেন, তার শিশুপুত্র হুয়ান ডেভিডই তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দায়ানা বলেন, ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারে যখন চারপাশে মৃত্যুর নীরবতা, তখন একমাত্র সন্তানের মুখের দিকেই তাকিয়ে তিনি বেঁচে থাকার সাহস পেয়েছিলেন।
“যতক্ষণ আমার ছেলে বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমিও হার মানিনি। ও এখনও শ্বাস নিচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আমি বারবার ওর ছোট্ট নাকে হাত দিয়ে দেখতাম,” বলেন তিনি।
মা ও শিশুর এই অলৌকিক উদ্ধারের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার এই ঘটনা শোকাহত ভেনেজুয়েলাবাসীর কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গত বুধবার দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট এই দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের “সবচেয়ে নির্মম প্রাকৃতিক বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উদ্ধারকর্মীরা এখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।
রাজধানী কারাকাসের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দায়ানা সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তারা উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরার একটি আটতলা অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে ছিলেন। প্রথমে তিনি কম্পনটিকে সাধারণ ভূমিকম্প ভেবেছিলেন। এরপরই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ছুটে যান।
“হঠাৎ মনে হলো আমি বাতাসে উড়ছি। এরপরই মনে হলো আমি পানি আর কাদার ভেতর ডুবে যাচ্ছি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গভীর এক অন্ধকার গর্তে পড়ে গেলাম। এখনও বুঝতে পারি না, কীভাবে এত বড় ধাক্কার মধ্যেও আমার সন্তানকে হাতছাড়া করিনি,” বলেন তিনি।
ধসে পড়া কংক্রিট ও আসবাবপত্রের নিচে আটকে যাওয়ার পর প্রথমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছিলেন দায়ানা। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন, সেখানে তার ডাক শোনার মতো কেউ নেই।
তিনি বলেন, “আমি নিজেকে বলেছিলাম, অযথা চিৎকার করে শক্তি নষ্ট করব না। যখন মানুষের কণ্ঠস্বর বা পায়ের শব্দ শুনব, তখনই চিৎকার করব।”
ধ্বংসস্তূপের নিচে তার বাম পা কংক্রিটের নিচে আটকে ছিল। মাথাও একটি বড় পাথরের সঙ্গে চাপা পড়ে ছিল। ফলে সামান্য নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একটি ঘটনা তাকে নতুন করে মানসিক শক্তি দেয়। তিনি জানান, পিঠের নিচে একটি বাইবেল অনুভব করার পর মনে হয়েছিল, ঈশ্বর তাকে বেঁচে থাকার সংকেত দিচ্ছেন।
দায়ানা বলেন, “সেই মুহূর্ত থেকেই আমি নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করি।”
ধ্বংসস্তূপের ঘন অন্ধকারের মধ্যেও ওপরে ছোট্ট একটি আলোর বিন্দু দেখতে পেতেন তিনি। অনেকক্ষণ পর নিজের ভাইয়ের কণ্ঠে নাম ধরে ডাক শুনেই বুঝতে পারেন, উদ্ধারকারীরা কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজেকে বললাম, এটাই শেষ সুযোগ। ফুসফুসের সব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বললাম, ‘আমি এখানে।’ তখন আমার ভাই ওপর থেকে বলল, ‘আমি তোমাকে খুঁজে পেয়েছি। তোমাকে বের না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে এক পা-ও নড়ব না।'”
ভাই তার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে ধ্বংসস্তূপ কেটে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় দায়ানার দুই পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে ছোট্ট হুয়ান ডেভিড প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় দায়ানার স্বামী গারসন পাতিনো বাসার নিচে গাড়ি পার্ক করছিলেন। ভবন ধসে পড়তে শুরু করলে তিনি কোনোমতে সীমানা প্রাচীর টপকে প্রাণে বাঁচেন। কিন্তু চোখের সামনে পুরো ভবনটি ধসে যেতে দেখে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, স্ত্রী ও সন্তান আর বেঁচে নেই।
তাই তাদের জীবিত উদ্ধারের খবর তার কাছে ছিল অবিশ্বাস্য।
গারসন বলেন, “এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি ভেবেছিলাম ওরা আর নেই। কিন্তু যখন ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দেখলাম, মনে হলো আমিই যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়ার পর আবেগে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে আছেন গারসন। সেই দৃশ্য লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ভূমিকম্পে তাদের সাজানো সংসার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সব আসবাবপত্র ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে। পরিবারের প্রিয় পোষা কুকুরটিও এখনও নিখোঁজ।
তবু হতাশ নন এই দম্পতি।
গারসন বলেন, “আমরা সবকিছু হারিয়েছি। কিন্তু আমরা বেঁচে আছি, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা আবার শূন্য থেকে শুরু করব, নতুন করে আমাদের জীবন গড়ে তুলব।”
সুত্রঃবিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au