মেলবোর্ন,৬ অক্টোবর- ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সদস্যদের ‘সন্ত্রাসীদের মতোই’ আচরণ করা উচিত। এদের মধ্যে রয়েছেন সুপরিচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।
রবিবার এক বিবৃতিতে বেন-গভির বলেন, “যে সন্ত্রাসকে সমর্থন করে, সে-ই সন্ত্রাসী এবং তার সন্ত্রাসীদের মতোই আচরণ পাওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি তারা ভেবে থাকে এখানে এসে লালগালিচা আর উৎসবমুখর অভ্যর্থনা পাবে, তবে তারা ভুল করেছে।”
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে প্রায় ৪৫০ জন কর্মীকে আটক করে। এই কর্মীদের মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীও ছিলেন।
ইসরায়েল দাবি করে, এই নৌবহরটি “সন্ত্রাসীদের পক্ষে প্রচারণা” চালানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল, যদিও অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল গাজার বেসামরিক জনগণের কাছে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।
বেন-গভির জানান, তিনি দক্ষিণ ইসরায়েলের কেতজিয়ত কারাগার পরিদর্শন করেছেন, যেখানে বেশিরভাগ কর্মীকে আটক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন,“আমি গর্বিত যে আমাদের কর্তৃপক্ষ এই নৌবহরের কর্মীদের সন্ত্রাস সমর্থক হিসেবে দেখে। তাদের কেতজিয়তের পরিবেশ বুঝতে হবে এবং ইসরায়েলে আসার আগে দু’বার ভাবতে হবে।”
মন্ত্রী দাবি করেন, তিনি নৌবহরে কোনো উল্লেখযোগ্য মানবিক ত্রাণ দেখেননি—“আমি শুধু একটি শিশুখাদ্যের টিন দেখেছি। বাকিরা মানবাধিকারের মুখোশ পরে সন্ত্রাসের প্রচারণা চালাতে এসেছে।”
বেন-গভিরের এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আটককৃতদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগগুলো “ধৃষ্ট ও মিথ্যা।”
বিবৃতিতে বলা হয়,“সব আটক ব্যক্তির আইনি অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হয়েছে। বরং অদ্ভুতভাবে গ্রেটা ও অন্যরা নিজেদের নির্বাসন দ্রুত সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হেফাজতে থাকার সময় বাড়িয়েছেন।”
মন্ত্রণালয় আরও দাবি করে, থুনবার্গ বা অন্য কোনো কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ জানাননি।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গ্রেটা থুনবার্গকে পোকামাকড়–আক্রান্ত, খাদ্য ও পানিশূন্য একটি সেলে রাখা হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার নাগরিক হাজওয়ানি হেলমি এবং মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিভার বলেন, তারা থুনবার্গের সঙ্গে দুর্ব্যবহার হতে দেখেছেন।তাদের দাবি,“গ্রেটাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল এবং জোর করে ইসরায়েলের পতাকা গায়ে জড়াতে বাধ্য করা হয়।”
হেলমির ভাষায়, “আমাদের পরিষ্কার খাবার বা পানি দেওয়া হয়নি, এমনকি ওষুধ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”বিভার আরও বলেন,“বেন-গভির আসার সময় গ্রেটাকে প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাকে জোর করে আলাদা ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”